স্পা শু শিভচ্ক্া্জ্র্9।

1৮410০77105 হা 19৮2 0০4-]

5% /901097 8051 502৮হ ঠ,

7, (07587862770 23৩775016) 5 £/7710675110 412৩ 25 95271018776 17655751711) 5560700891502121 5 25015 ॥. £207707710 ০১৩০৪৫৫2781, £90000 £7110575168 /027750£ 5091 1/:622254 47521277 1016 1 0816)081 177021275 50120০7.

টি 24 রিশা চি ৬৬৫ জান শস

আ্মনাশুতোষ কোন দা এম্‌. এ. প্রণীত তল ৮৮

বা নে 1 পা

30৮ শ্র্ট পু ১৯২ ডি, কর্ণ ওয়ালিন্স-স্্রীট,

৬9 পট

১৯২ ডি, কর্ণওয়ালিস গ্রাট, কলিকাতা গ্রন্থ-নিকেতন' হইতে শ্রীক্ষিতীশচন্্র দে কর্তুক প্রকাশিত

' এরন্থস্বত্ব সংরক্ষিত

এই গ্রন্থকার প্রণীত

শব্দ উচ্চারণ (ভাষ!তব) 22. মধুমাল। (কাব্য গ্রন্থ। 5৫? টি _ গ্রহ্থ-নিকেতন ১৯২ ডি, কর্ণওয়ালিস ছ্রীট, কলিকাতা! মনের আগুন (ছোট গল্প, রর 2, সু আজব বেদে (সচিত্র শিপু কাবা 2. হর ॥০ অস্তয়মান (উপন্তান। ৪2 ১. যন্ত্স্থ

মডার্ণ পাব্রিশিং সিণ্ডিকেট

9৩ মিজ্জাপুর গ্রাট, কলিকাতা 2

প্রি্টার--শ্লীক্ষিতিশচগ্ চট্টে।পাধ্যায় শক্তি প্রেস, ২৭।এবি, হরিপোষ কাট, কলিকাত!

ভূমিকা

এই পুস্তকে নিবদ্ধ বিষয়গুলি আংশিক ভাবে যখন “ভারতবধ”-প্রমুখ মাসিক পত্রিকায় (প্রকাশিত হয় তখন তাহা হতে পুনরায় একাধিক পত্রিকায় তাহা সংকলিত হইতে দেখা যায়। এই কারণে এই প্রবন্ধ গুলিকে পুস্তকাকারে গ্রথিত করিবার প্রয়োজনীয়তা উপলপ্চি করি

কলিকাতা বিশ্ববিদ্ভালয়ে মাতৃভাবা গ্রবেশিক। পধান্ত শিক্ষার বাহন নির্দিষ্ট ওয়ায় এবং কলিকাতি। ঢাকা বিশ্ব- বিদ্ভালয়ে বি.এ. এম.এ. পরীন্ষা পধান্ত বাংলাভাবা পাঠা- তালিকাভুক্ত হওয়ায় বাংলাভাষার বিস্তত আলোচনার প্রয়োজন শতগুণ বৃদ্ধি পাইয়াছে। এই বিষয়ে ইংরাজিতে লিখিত কয়েকখানি পুস্তক আছে, কিন্ত আধুনিক ভাষাতত্বান্ু- মোদিত উপানে লিখিত বাংলাভাবায় অধিক পুস্তক নাই অতএব বশ্ুমানকালে এমন একখানি পুস্তকের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম বলিতে হইবে এই বিষয়ে বর্তমান প্রস্তকখানি কতদূর সেই অভাব দূর করিতে পারিবে ভাহা আমার নুবী পাঠকগণ বিবেচনা করিবেন

আমার বাংলাভাষার ইতিহাস বাংলাভাবাতন্বের অধ্যাপক পরন শ্রদ্ধ।স্পদ ডকর শ্রীযুক্ত স্থশীলকুমার দে এম.এ ডি, লিট্‌. (লগুন) ড্র মুহম্মদ শহীতুল্লাহ. এম.এ, ডি, লি (প্যারিস) মহোদয়দ্য়ের বহু নিজস্ব মতবাদ হয়ত জ্ঞাতসারে

কিন্বা অন্তাতসারে এই পুস্তকে ব্যবহার করিয়াছি ।- সেইজন্য তাহাদের নিকট আর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের ধৃষ্টভা প্রকাশ করিব না। আমার এই পুস্তকে যদি কোন কৃতিহের ভাগ থাকে তবে তাহ! তাহাদের নিকট হইতেই শিক্ষালন্ধ এবং নিন্দার ভাগ আমারই নিজস্ব বলিতে হইবে

বর্তমান পুস্তকের শেষাংশ («কথ্যভাষা”) আমাকর্তৃক লিখিত 1175 00151102500 100৮ 0101)177070 91 ৮7৫ 1)0720]1 1)100106৮ নামক ইংরাজি পুস্তকের অসমাপ্ু পাগুলিপি হইতে আংশিকভাবে গৃহীত হইয়াছে। উক্ত পুস্তকখানি ব্যক্তিগত কারণে দীর্ঘকাল যাবৎ সম্পূর্ণ করিতে পারিত্েছি না। বর্তমান পুস্তকখানি,সম্বন্ধে কেহ যদি কোন দোব ক্রটির নির্দেশ করিয়! দেন, তবে আমার ভবিষ্যতে উক্ত পুস্তক সম্পূর্ণ করিবার পক্ষে যথেষ্ট সহায়তা হইবে

এই পুস্তক, রচনায় বহুভাবে অনেকের নিকট হইতে সাহাষ্য লাভ করিয়াছি। পুর্ববোল্লিখিত জামার পুজশীয় অধ্যাপক ভাবাবিজ্ঞানে সুপঞ্ডিত ঘুহম্মদ শহীহছুল্লাহ, সাহেব এই দূরবন্তা দেশেও আমাকে ভীহার অমূল্য উপদেশাদি দ্বার! নবদদা উৎসাহিত করিয়াছেন বন্ধুবর পণ্ডিত শ্রীধুক্ত শরৎচন্দ্র রায় কাব্যতীর্ঘ, পণ্ডিত শ্রীযুক্ত শরংচন্দ্র চক্রবন্তী পুরাঁণরত্ব শ্লীযুক্ষ ছুর্গাপদ আবন্থী এম. এ. (আগ্রা) মহোদয় আমাকে নানাভাবে সাহাষ্য করিয়াছেন আমার এই পুস্তকের সহিত তাহাদের নান সংগ্রিষ্ট রাখিয়া নিজেকে গৌরবাদ্ধিত মনে করিভেছি

মাসানসোল, ই. আই, ৩১ 905158055, স্রীজাশতোষ ভষ্টাচার্য্য

পরমারাধা পিতাদের

শ্রীযুক্ত যুরারি মোহন ভট্রাঁচার্ধ্য বি. এল

মহোদয়ের শ্রীচরণে

সুচী-পত্র

বিষয় প্রারন্ তৎসম শন শানু এন আদ্দীতহমম শক ১. রি তদ্ভধব শব দেশজ শন্দ

ধ্বমিজ শব

বিদেটি শব

রর আরবি পারসি শন্দ রঃ ইষ্উদুরাপীয় শ্দ। ১২ রঃ ভাতা শক রর

ভার অগ্যান্ত প্রাদেশিক শান শর্দেল উচ্চার*-লিসতি

বানানে আার্ধ প্রয়োগ কগাভাবার শুন

কথাভ]লার শৌগোলিক সংস্থান

কথাভাদাব বি:ভন্-শর কারণ (শীগোলিপ সামাছিক ৬. পেত রাঁডদন তিক

সান্দে .-ভচেলাল্সন

অনেকের বিশ্বীস, বাংল! ভাষায় বানান-সমস্তা বোধ হয় আধুনিক স্থষ্টি, প্রাচীনকালে এমন ছিলনা ; কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তাহা নহে। বর্তমানের তুলনায় প্রাচীন মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় এই সমস্তা সকল প্রকারেই জটিলতর ছিল

মাগধী অপত্রংশ হইতে বঙ্গভাষার জন্ম সেই জন্য প্রাচীনতম বঙ্গ- ভাষার সে নিদর্শন প্রান্ত হওয়া ধায় তাহার বানানেও অপভ্রংশ-সূলভ ব্যাপক ব্যভিচার দৃষ্ট হয়। কিন্তু অপত্রংশেরও একটা ব্যাকরণানুযায়ী নিয়ম আছে। প্রাচীনকাল হইতেই বঙ্গভাষা যদি এঁ নিয়মকেই অনুসরণ করিয়া চলিত তাহা হইলেও বাংলা বানান প্রথম হইতেই একটা নির্দিষ্ট প্রণালী অবলম্বন করিয়৷ লইত। বঙ্গভাষার একট। বৈশিষ্ট্য এই যে, ইহা তাহার জন্মকাল হইতেই সংস্কৃতির সহিতও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করিয়া চলিতে দেখা যাঁয়। সেই জন্ত অপত্রংশের রীতির সহিত মূল সংস্কৃতের রূপ মিশ্রিত হইয়! ইহার" বানানকে অতি প্রাচীনকাল হইতেই সমস্তা- মূলক করিয়া! তুলিয়াছে। এইভাবে সাহিত্যের প্রাচীনতম যুগেও বানানের চরম স্বেচ্ছাচারিতা! দৃষ্টিগোচর হয়।

অধ্রেকের আবার বিশ্বাস যে, প্রাচীন বাংলা সর্বতোভাবে সংস্কৃত প্রভাব হইতে মুক্ত। কিন্তু ইহা কদাচ সত্য নহে। প্রাচীনতম ব্গ- ভাষার নিদর্শন স্বরূপ স্বর্গীয় মহাঁমহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্বী মহাশয় যে “বৌদ্ধগান”' প্রকাশিত করিয়াছেন তাহাতে, সর্বসমেত ২১৩৫টি শব্দ

শব্দ উচ্চারণ

ক্ষ ছল

প্রায়ই প্রাকৃতানুযায়ী হইত ; যেমন, 'কাআ'', 'জথা”, “মণ'। কিন্ত সমস্ত বানানই যদি এই প্রকার প্রারুতের নির্দেশ মানিয়। চলিত তবে অবশ্ত কোন সমস্তারই স্থষ্টি হইত না) পরস্থ বিশুদ্ধ সংস্কৃতান্থ্যায়ী বানানেরও তাহাতে অপ্রাচ্ধ্য নাই ; যেমন, “অঙ্গন” “সখ”, “রস

মধ্যযুগের বানান অনেকটা! প্রারকত-প্রভাব-যুক্ত হইয়া আসিতে দেখ যায়। ইহার কারণ মধ্যযুগ হইতেই বঙ্গদেশে ব্যাপক সংস্কৃতির অনুশীলন: আরম্ভ হয়। সেই সময়কার অধিকাংশ আখায়িকাও ছিল পৌরাণিক; তখনকার কোন পুঁথি ধরিয়া হিসাব করিলে দেখা যাইবে যে, সংস্কৃত শব্দ বাংলা শব্দ প্রায় সমপরিমাণে ব্যবন্বতত হইতে আরম্ভ করিয়াছে এবং এই সময়ের লিপিকারেরাও ক্রমে অন্রতা-মুক্ত হইয়া বানানের বিশুদ্ধতা রক্ষায় যত্ববান্‌ হইয়াছেন

এই গেল, চৈতন্ত-পূর্ববস্ী যুগের কথা চৈতন্ত-সাহিত্য বজ- ভাষার যে কেবল জীবন-চরিত লেখার প্রবর্তন করিল তাহাই নহে, ভাষার ব্যাপক অনুশীলনের ভিতর দিয়া! বাংল! বানানেও সর্বপ্রথম বিশুদ্ধত। রক্ষার চেষ্টা করিতে লাগিল। ইহার প্রধান কারণ এই বে, চৈতন্-চরিতকারের! সকলেই সংস্কৃত ভাষায়ও স্থপগ্ডিত ছিলেন। সেই জন্ত বিশ্তন্ধ সংস্কৃত শব্দের ব্যাপক ব্যবহার তাহাদের বানানের বিশুদ্ধত। রক্ষায় তাহাদের যত্বু চেষ্টা অত্যন্ত স্বাভাবিক এইভাবে ভারতচন্্ রায়ের আবির্ভাবের পূর্বেই সংস্কৃত শব্দের প্রয়োগ তাহাদের বানানের বিশুদ্ধতা রক্ষার চেষ্টা বঙ্গভাষায় বিশেষভাবেই বিস্তৃতি লাভ করিল |

, গারভচন্দ্র রায়ের সমর হইতে আরম্ভ করিয়। কালী প্রসন্ন সিংকের 'হাতোম পাচার নক্ম।' « প্যারাটাদ মিত্রের 'আলালের খরের দুলাল, প্রক্কাশিত হওয়ায় পূর্বব পধ্যস্থ বঙ্গভাঁষার বানানের বিশ্তদ্ধত| সম্পূর্ণভাবে

প্রারস্ত রক্ষিত হইয়া আসিয়াছে কারণ এই যুগের লেখক মৃত্যুর বিদ্যালঙ্কার, রামমোহন রায়, মদনমোহন তর্কালঙ্কার, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিষ্যা- সাগর অক্ষয়কুমার দত্ত, মধুস্থদন দত্ত, ভূদেবচন্ত্র মুখোপাধ্যায়, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, রামনারায়ণ তর্করত্ব প্রভৃতি সকলেই সংস্কৃত-পন্থী ছিলেন যেদিন হইতে বঙ্গভাষায় প্যারীর্টাদ মিত্রের 'আলালের ঘরের দুলালে'র জন্ম হইল সেইদিন হইতে ভাষার দিক দিয়া! যেমন এক সমস্তার উদ্ভব হইল, সেই রকম বানানের দিক দিয়াও এক গুরুতর সমস্তার স্থষ্টি হইল।

স্কৃত-পন্থীরা মনে করিয়াছিলেন যে, এই প্রকার ভাষার জন্ম সাহিত্যে ক্ষণস্থায়ী মাত্র। কিন্ত প্রকৃতপক্ষে তাহা হইল না) বঙ্কিমচন্দ্র আংশিক এই ভাষাই গ্রহণ করিলেন, দীনবন্ধু মিজ্রও তীহার নাটকের নিয়তন চরিত্রগুলি এই ভাষা দিয়াই স্থষ্টি করিয়া রসজ্ঞের মনোরঞ্জন করিলেন। কথ্য এবং প্রাদেশিক ভাষাকে সাহিত্যে গ্রহণ করিলে ইহাদের বংনানের ব্যভিচার অনিবার্য হইয়া উঠে এবং এইজন্যই সেই সময় হইতে বঙ্গভাষার ভাষা-সমস্তার মত বানানও অন্ততম সমস্তার বিষর হইয়া দাড়াইল। চণ্ডীকাব্যকার মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর পূর্ব হইতেই বাংল! কবিতায় মুসলমানি শব্দ প্রয়োগ হইতে আরম্ভ করে। ভারতচন্দ্র রায় তাহার পরবর্তী কবি ইঈশ্বরচন্ত্র গুপ্ত ব্যাপকভাব মুসলমানি শব প্রয়োগের পক্ষপাতী ছিলেন। এই বিদেশি শব্গগুলির বানানে চরম ব্যভিচার লক্ষিত হইত এবং এমন কি একই লেখককে একই শব্দের বিভিন্ন বানান ব্যবহার করিতে দেখ। গিয়াছে কেহ বা সংস্কৃত ব্যাকরণ্রে “বিধি ইহাদের উপর আরোপ করিয়। ইহাদের বাংল! বানান গঠন করিয়াছিলেন, কেহ বা ইহাদিগকে বিদেশি শব বিবেচনা করিয়া যথেচ্ছ বানান করিয়াছেন এমন কি নিয়লিখিষ্ভ এই প্রকার কতকগুল

শব্দ উচ্চারণ

শবের বানান এখন পধ্যস্তও নির্দিষ্ট হয় নাই; যেমন, “নিস”, “জিনিষ, “বাকি”, বাকী") থখুসি', থুসী খুশী? খুশি; চিসমাত চিশমা “দেরী”, “দেরি” ) "শহর", “সহর' ; “শী”, "সবজী, ) «সাদা', "শাদা, ইত্যাদি। বাংলা বানানের একট। নিয়ম নির্দিষ্ট না থাকার জন্ত এই সমস্ত বাংলায় ব্যবহৃত আরবি-পারসি শকের উপর বানানের স্বেচ্ছাচারিতা চরমে আসিয়া পৌছিয়াছে।

অন্নকাল মধ্যেই আবার বাংলা ভাষার সঙ্গে পোর্তু,গীজ, ইংরেজি ফরাসি শক সংমিশ্রণ আরম্ভ হইল। ইহার ফলে একমাত্র মুসলমানি শব্দ যে সমস্তার স্থষ্টি করিয়াছিল তাহাই জটিলতর হইয়া উঠিল মাত্র

বাংলা ভাষার সহিত যে শুধু পাশ্চাত্য মুসলমানি শবেরই যথেচ্ছ সংমিশ্রণ হইয়াছে তাহা নহে; বাঙ্গালি জীবনের বিভিন্নমুখী বৈষয়িক বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে ভারতের অন্ান্ত প্রাদেশিক ভাষার সঙ্গেও ইহার শব্ধ-সম্পদের আদান প্রদান হইতেছে এই ভাবে বহু আসামি, ওড়িয়া, হিন্দি, মারাঠি, গুজরাটি শবও বাংলা ভাষায় আসিয়া স্থান লাভ করিয়াছে। ইহাদের বাংলা বানান গঠনেও কোনরূপ নির্দিষ্ট নয়ম অবলম্বন কর! হয় ন।।

আধুনিক বাংল। ভাষার বানানের একট| বিশেষ গুণ এই যে, ইহা সর্বতোভাবে প্রাক্ৃত-প্রভাব-যুক্ত হইতে চেষ্ট। করিয়। সংস্কৃতের সহিত ঘনিষ্ঠত। স্থাপনে বন্্বান্‌ হইয়াছে ইহ বাংল। বানানের পক্ষে একটা শুভ লক্ষণ বলিতে হইবে কারণ, সংস্ত ভাবায় যে স্ুসংবদ্ধ ব্যাকরণের নিয়ম এতকাল যাবৎ শ্রী ভাষার পবিভ্রত। রক্ষা করিয়া আসিতেছে তাহার নিক্ষেশাধীনে আসিলে বাংল। ভষার ক্ষেত্র হইভেও বানানের শ্বেচ্ছাচারিত, দূর হইবে অনেকে এই কথ| তুলিয়। তক করিয়! থাকেন যে, সংস্কতের নিয়ম বাংল!ঘ খাটিবে কেন? কিন্তু ইহ! স্মরণ রাখা উচিত

প্রারস্ত যে, বাংল। ভাষ। গোড়া হইতেই সংস্কৃতির নিকট খণী, অতএব একটা নিয়ম ষদি মানিতে হয় তবে সংস্কতেরই নিয়ম মানিয়া লওয়! উচিত; কারণ, উচ্ছ জ্খলতা দ্বারা একটা ভাষার ভবিষ্যৎ মঙ্গল স্থচিত হইতে পারে না। যেদিন বাংলার নিজন্ব নিয়ম গঠনের দিন আসিবে সেদিন সংস্কতকে বিদায় দিলেও চলিবে |

শবের বু[ৎপত্তি-জ্ঞানের অভাব থাকিলেই সাধারণতঃ বানান বিভ্রাট ঘটিয়! থাকে বাংলা ভাষার আধুনিক লেখকদিগের মধ্যে অনেকেরই এই ক্রটী বর্তমান। অতএব সাহিত্যের অনুশীলনের সঙ্গে সঙ্গে যাহাতে ভাষাতত্বের আলোচনাও বিস্তৃতি লাভ করে তাহার চেষ্ট। করিলেই বঙ্গভাষা এই ব্যভিচার হইতে মুক্ত হইতে পারে।

বানান-সমস্তা স্থষ্টির আর একটি প্রধান কারণ এই যে বাংলার উচ্চারণ-রীতির সঙ্গে তাহার বর্ণমালার নিবিড় সম্পর্ক নাই। ভারতের কোন সুদূর অতীত যুগের কোন এক বিশেষ উচ্চারণানুঘায়ী গঠিত বর্ণমালাকে আমাদের সম্পূর্ণ গ্রহণ করিতে হইয়াছে ; তদুপরি বর্তমান বাংলারও বিভিন্ন স্থানের উচ্চারণ-রীতির কোন এঁক্য নাই। তাহ! হইলেও সার্বজনীন উচ্চারণের একটি বিশিষ্ট রীতিকে অবলম্বন করিয়া আপন! হইতেই খানান কোন বিশেষ প্রণালীবদ্ধ হইয়া আসিত।

প্রত্যেক ভাষারই উচ্চারণের একট! নিজস্ব রীতি আছে। প্রত্যেকেই তাহার উচ্চারণের বৈশিষ্ট্য পুর্বপুরুষদিগের নিকট হইতে লাভ করিয়। কে, ইহা! একটি বংশান্ক্রমিক গুণ ক্রমে জাতীয় ভাষা এই উচ্চারণানুষায়ী গঠিত হয় নৃতত্ববিদেরা' বলেন, বাঙ্গালি একটি সঙ্কর বা মিশ্র জাতি | বাঙ্গালির বাহ অবয়বে যেমন পরম্পরের সহিত সাঁমগ্জশ্ত অতি অল্প অন্তঃপ্রক্ৃতিতেও তেমনি | ,জীতিগতভাবে বাঙ্গালির নিজস্ব উচ্চারণের কোন রীতি নাই। একই প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের

রাজ জি

লী জি টি তা

উচ্চারণ | এত পৃথক যে য় পরম্পরের ভাষাই স্বত স্বতন্ত্র বলিল মনে হয়। এই কারণে রা, বরেন্দ্র, বঙ্গে বিভিন্ন প্রকৃতির কথ্য ভাষার সৃষ্টি হইয়াছে। ময়মনসিংহের সহিত তাহার সংলগ্ন জিলাগুলির উচ্চারণের তুলন। করিলেই তাহা বুঝিতে পার! যাইবে। শুধু তাহাই নহে, যে কলিকাতা সহরের উচ্চারণ আমরা আদর্শ বলিয়! গ্রহণ করিতে যাই তাহারও বিভিন্ন পরিবারের উচ্চারণ-রীতি এক নহে। ইহার কারণ, কলিকাত! নূতন সহর বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের লোকই এখানে আসিয়। বসবাস করিতেছে ; তাহাঁদের কৌলিক উচ্চারণের রীতি কেহ এখন পর্য্যস্ত সম্পূর্ণ ত্যাগ করিতে পারে নাই। ভারতের অন্ত কোন প্রদেশের ভাষায় বাংলার মত এত অন্ন স্থানের ধ্যবধানে এত পার্থক্য নাই। ইহা! হইতে উপলব্ধি করিতে পার! যাইবে যে, বাংলায় উচ্চারণান্ুযা়ী নিজন্ব বানান গঠনের উপায় নাই। কারণ, বানানে একট! সার্বজনীন রীতি গ্রহণ ন। করিলে ভাষার এক্য নষ্ট হয় এবং তাহ। -হইতেই জাতীয় এঁক্য শিথিল হইয়! পড়ে উচ্চারণগত পার্থক্য থাকিলেও লেখ্য ভাষায় একটা বিশেষ নিয়ম অবলম্বন করিলে ভাষার সংহৃতি অক্ষু্ণ থাকিয়া যায়। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকৃতির শব্দের মধ্যে এই এক্যসংস্থাপক নিয়মের নির্দেশ করাই বর্তমান পুভ্তিকার উদ্দেম্ত। ংল! ভাষায় বিভিন্ন প্রকৃতির শব্দ ব্যবহৃত হইয়৷ থাকে ) যেমন, স্কৃত শব, সংস্কৃতের বিকৃত উচ্চারণ-জাত শব, সংস্কৃত হইতে নিয়মিত ভাবে জাত শব্দ, দেশজ, মুসলমানি ইউরোপীয় প্রভৃতি ভাষার শব ইহাদিগকে যথাক্রমে 'তৎসম”, "অর্ধতৎসম' “তত্ভব" 'দেশি' “বিদেশি' শব বলা হইয়া! থাকে উহাদের রীতি বানান-গঠন সম্বন্ধে এক্ষণে বিস্তৃতভাবে আলোচনা! করা যাইবে

তৎসম শব্দ

বাংলায় ব্যবহৃত সংস্কত শব্কে তৎসম শব্দ কহে। যেমন, 'বুক্ষ, “নির্ণর”, 'শিরন্ত্াণ' ইত্যাদি আধুনিক বাংলা ভাষায় এই শবের পরিমাণ অত্যান্ত অধিক। সেইজন্ত ইহাদের বানান সম্পর্কেও কয়েকটি প্ররোজনীয় কথ বিস্তুতভাবে বল! অপ্রাসঙ্গিক হইবে না। ইহ। প্রত্যেকেরই মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, এই জাতীয় শবের সংস্কৃত অভিধানের নির্দেশানুযায়ীই বানান হইবে; সাধারণত: তাহাই হয়ও। বাংলাই ভারতীয় আধ্যভাষাসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সংস্কৃত-পন্থী। হিন্দিতে অনেক সংস্কৃত শব্ের বিকৃত বানান হয় ; যেমন, “সির্‌* (শিরঃ) “মুসল' ( মুষল ) মকৃখী ( “মক্ষী )) বাংলায় এমন হয় না। কিন্তু তথাপি ংলার উচ্চারণ-বৈশিষ্ট্যের জন্য এই জাতীয় শব্দের বানীনও অল্পবিস্তর পরিবর্তিত হইতেছে এই পরিবর্তনের মধ্যে যদি বাংল! ভাষাতব্বের নিয়মান্ুমোদিত কৌন সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে ভাহ! হইলে তাহা গ্রাহ্য হইতে পারে। এই প্রকার কতকগুলি দৃষ্টান্ত ধরিয়া আলোচন। কর। যাউক। রেফ-যুক্ত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব_সংস্কৃত শবের বানানের জন্য পাণিনি স্যত্র কুরিয়াছিলেন, “অচোরহাভ্যাং দবে*় (৮919৬) অর্থাৎ “র' “হ* পরে থাকিলে 'যপ,” বা শ, ষ, ব্যতীত সকল ব্যঞ্জনেরই বিকল্লে দ্বিত্ব হইবে। যেমন, “অর্চনা, “অর্চনা” ; “অধ” “অপ্ধ' এই রেফ-যুক্ত তৎসম শবের ংল! বানানে কতকগুলি বিশেষ বর্ণে দ্বিত্বের রীতি প্রচলিত আছে। ংলায় বিকল্পের রীতি নাই কিন্তু ইদানীং কেহ কেহ এই দ্বিত্ব বর্জন

শব্দ উচ্চারণ করিয়াছেন। ইহাতে একই শব্দের দ্বিবিধ বানান দেখিতে পাওয়া যায় ; যেমন, “কাধ্য' “কার্য ; বর্তমান, 'বিতমান” ; পপুর্বার্”, পপুর্বাধ?। বানানের এই দ্বৈত নিয়মে ভাষার সংহতি নষ্ট হয়। অতএব উহাদের মধ্যে একটি কি নিয়ম গ্রহণ কর! যাইতে পারে তাহার আলোচন। করিব।

-স্কৃত ব্যাকরণে দ্বিত্বের বিকল্প বিধান থাকিলেও ইহ লেখকের স্বেচ্ছাচার মতই ব্যবহৃত হইত না। এই সম্পর্কে একটি সুন্দর নিয়ম অনুস্থত হইতে দেখ। যায়। যেমন,

(১) “ক? বঞ্গর কোন নরেফ বর্ণ দ্বিত্ব হয় না। যেমন, “অর্ক' মুর্খ, বর্গ, অর্ঘ' ;

(২) “ঝ" থা" নি "পভ" ছি" রেফ “ঘুক্ত হইলে ঘ্িত্ব হয় ন1। যেমন, “নিঝর”, “অর্থ” “ুনণম “সর্প, গর্ভ পর? |

(৩) ? বর্গের কোন বর্ণ এবং “ফ' রেফ-যুক্তই হয় না।

(৪) সংস্কৃতে অন্থ:স্থ বর্ণ দ্বিত্ব হয়না তবে বাংলার অন্তঃস্থ অন্তুঃস্থ *ব" ব্্গীয় বর্ণের মত উচ্চারিত হয় বলিয়া বাংল! বানানে তাহারাও রেফ-যুক্ত হইলে দ্বিত্ব হয়।

অতএব দেখ। যাইতেছে যে, পাঁণিনি বিকল্পের বিধান দিলেও ব্যবহারতঃ উল্লিথিত কতকগুলি বর্ণ নিয়মিত ভাবেই দ্বিত্ব হইতেছে ন!। কেবল, “চ', 'জ', তি, “দা, ধ”, এব, ম' এই কয়টি বর্ণের বেলায়ই, দ্বিত্ হইতেছে এই নিয়মটি সর্বতোভাবেই ধ্বনিতত্বান্থমোদিত (90010- 1061081) ইহার বিস্তৃত বর্ণনায় প্রয়োজন নাই, তবে এই নিয়মানুমীরেই আরও দুটি বর্ণ হইতে দ্বিত্বের উচ্ছেদ হইতে পারে। বর্ণ ছুইটি “ছ* ধ'। মহা'প্রাণ বর্ণের দ্বিত্ব উচ্চারণত: অসম্ভব অতএব এই ছুইটি বর্ণ হইতে বাংলায় দ্বিত্ব ত্যাগ কর! যাইতে পারে। কিন্তু উল্লিখিত বে সমস্ত বর্ণ সংস্কৃত ভাষার জন্মকাল হইতে আজ পর্যান্ত নিয়মিতভাবে

ছিরে

স্টিল সী সঈলী পাস সলাত লী লী চু

দতব হইয়া আসিয়াছে, তাহাদিগের হা অঙ্গহানি ক' করা 1 সমীচীন ন্হে। কারণ এই নিয়মটি নিতান্তই স্বেচ্ছাচার-প্রস্থত নহে।

এই দ্বিত্বের রীতি কোথা হইতে আসিল ? মনে হয় এই দ্বিত্ব সংস্কৃত উচ্চারণান্ুযারী (191১0176610) বানানের অন্যতম নিদর্শন ।* কারণ রেফ- যুক্ত অন্নপ্রাণ ব্যঞ্জনকে স্বাভাবিক উচ্চারণ হইতে অধিকতর জোর দিয়া উচ্চারণ কর! হয়। ইহা অবশ্ স্বীকার্ধ্য যে 'নির্জন' “নির্জন'এর উচ্চারণ এক নহে শেষোক্ত স্থলে “কে একটু জোর দিরাই উচ্চারণ করা হয়। বর্ণের উচ্চারণে এই জোরটুকু বুঝাইবার জন্যই দ্বিত্ব করাও অসম্ভব নহে। যাই হউক, তাহা হইলে সংস্কৃত বানানের রীতি

ংল1 উচ্চারণ এই উভয়ের মর্যাদা রক্ষা করিয়া বাংলায় ব্যবহৃত সংস্কৃত শবের জন্য এই নিয়ম করা যাইতে পারে যে, একমাত্র "' “জ' “ত' প" “ব' “ম" 'ব' রেফযুক্ত হইলে দ্বিত্ব হইবে, অন্ত কোন বর্ণ দ্বিত্ব হইবে না।

অনুস্বার_-একমাত্র স্বরের “মন অর্থাৎ পশ্চাৎ যে অনুনাসিকের উচ্চারণ হয় তাহাকে অনুম্বার বা মনুন্বর বলে। সংস্কতে ইহার অত্যন্ত ব্যাপক ব্যবহার দেখিতে পাওয়া যায়। এমন কি অনু- নাসিক ব্যঞ্জনের অধিকার অনেকস্থলে খর্ব করিয়৷ পাণিনি অনুম্বার ব্যবহারের নিদ্দেশ দিদ্বাছেন (ডা. 1). 10100055 90505026 017010010 10 £)। কিন্তু বাংলার দেখিতে পাঁই বথাস্থানে অন্ুনাসিক ব্যঞ্জনের মর্যযাদ। পুনরার সুপ্রতিষ্ঠিত হইতেছে ইহাতে মূল সংস্কৃত শব্দের সহিত বাংলায় ব্যবহৃত সংস্কৃত শবের আরুতিগত বৈষম্য উপস্থিত হইয়াছে যেমন, সংস্কৃত “নংকল্প' “শংখ" 'সংগ' ইত্যাদি বাংলায় বাবহৃত হইয়া “সঙ্বল্প', “শঙ্খ” 'সঙ্গ' হইয়া গিয়াছে আধুনিক হিন্দি সংস্কৃতের

* ইংরেজিতে স্থল-বিশেষে বাঞ্জনের দ্বিত্বের বিধি আছে ; যেমন, 09210, 09101100091) ৮/07591)1]0090 7; 28097, 7909790 7; 2860৮, 190:66৮০৫- ইহাও ধ্বনিজ।

১০ শব্ধ উচ্চারণ

অনুযায়ী ব্যাপক অনুস্বার ব্যবহারেরই পক্ষপাতী কিন্তু বাংলায় সমস্ত স্র্শবর্ণে ব্যঞ্জন-পূর্ববর্তী অন্বস্বার লুপ্ত হইয়া তংস্থলে তত্তত্বর্গের অস্থু- নাসিকই ব্যবন্ৃত হইতেছে বাংলা বানানের সংস্কারপন্থীদিগের কেহ কেহ উভয়কুল রক্ষ। করিবার পক্ষপাতী তীহার! বিকল্পে উভয় বিধানই গ্রাহা বলিয় নির্দেশ দেন কেহ আবার বাংল] ধ্বনি-তত্বের মর্যাদা রক্ষা করিতে গিয়া সংস্কৃতের বিধান একেবারেই অগ্রাহ্য করিতে চাহেন। কিন্তু এই বিষয়ে বক্তব্য এই যে, ব্যাকরণে বিকল্পের বিধান খত অল্প.থাকে ততই ভাল এবং তৎসম শব্দের বানানের নিয়মে সংস্কৃত ব্যাকরণের নির্দেশই মানিয়া লওয়। কর্তব্য ইংরেজি শব্দকোষে ইতালীয়, ফরাপি প্রভৃতি বহু শব প্রচলিত আছে, কিন্তু সমস্ত এবের বানান ইংরেজি উচ্চারণা- নুযায়ী সংস্কার করিয়া লওয়া হয় নাই, তাহাদের নিজস্ব টবশিষ্ট্যই রক্ষা করা হইয়াছে ইহাতে শবের বুযুৎপত্তি নির্দেশেরও অত্যন্ত সুবিধা হয়। অতএব 'সংকল্প' "শংখ' 'সংগ" বানানই বাংলায়ও 'গ্রাহ ;- ইহার ব্যতিক্রম গ্রাহথ নহে। ভবে এযাবংকাল ইহার ব্যতিক্রমগ্ুলিও যখন গ্রাহ হইয়া আসিয়াছে তখন তাহাদিগকে প্রাচীন প্রয়োগ (21019101015) বলিয়া নির্দেশ কর! যাইতে পারে

বিসর্গ--সংস্কত বর্ণমালায় বিসর্গও একটি স্বাধীন বর্ণ নহে। ইহাকে সাধারণতঃ বল! হইয়! থাকে 'আশ্রয়স্থানভাগী' ; অর্থাৎ যে বর্ণকে ইহ আশ্রয় করিয়া থাকে ইহা তাহারই উচ্চারণে সাহায্য করে মাত্র বাংলায় তৎ- সম শবের বানানে পদাস্তস্থ প্রায় সমস্ত বিসর্গই লুপ্ত হইয়াছে ।€ যেমন, “মন ( মনঃ ) “যশ (যশ ) "শির" (শিরঃ )। তবে সমাসবদ্ধ পদের মধ্যস্থ্‌, বিসর্গ লুপ্ত হয় নাই ) যেমন, 'পুনঃপুনঃ' 'প্রাতঃকাল', নিভস্তল” ইত্যাদি। পদ্াস্তস্থিত বিসর্গের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ সাধন করিলে সংস্কৃত শবের একটি বর্ণেরই উচ্ছেদ কর! হয় ; কারণ, পদাত্তস্থ বিসর্গ সর্বত্রই একটি লুপ্ত “স্‌ ব|

তৎসম নু ১১৬

রর স্থানাবিকারী। যেষন 'মনস্‌ (ষনঃ) পুনর্ (খুন: )) অন্ত কোন শব্দের সহিত সন্ধিবদ্ধ হইলে এই গুপ্ত বর্ণগুলির সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন, “মনস্তাপ', 'পুনরপিঃ অতএব বাংলায় বিসর্গটি বর্জন করিলে একটি অসুবিধা এই যে, শব্বগুলিকে হসস্তভ্রমে উচ্চারণে ভুল কর! হয়; যেমন সংস্কৃত “মনঃ, বিসর্গ বর্জিত হইয়। লিখিত হয় “মন” এবং উচ্চারণে হর “মন্‌, ইহাতে বাংলা ওজনবাচিক “মণ'র সঙ্গে ইহার উচ্চারণে কোন পার্থক্য থাকে না, তাহ! হইতেই বানানেও গোলযোগ উপস্থিত হয়, সন্ধিরও বিভ্রাট ঘটিয়া থাকে

অতএব এসব স্থলে বিসর্গ রক্ষা করাই উচিত। বিগত উনবিংশ শতাব্দীর তৎসম শবেও এই বিসর্গ অক্ষু্ণ থাকিতেই দেখা যায়। যেমন,

“হানিলা ক্ষুস্থুম ধনুঃ টক্কারি' কৌতুকে”__মেঘনাদবধ ( মাইকেল )

“রতন-মগ্ডিত শিরঃ ঠেকিছে গগনে” চতুর্দশপদী (&)

"আমার পূর্বের যশঃ করিল অলীক”-_বৃত্রসংহার ( হেমচন্ত্র )

«হে অশ্ব বোধিদ্রম ! যহাকালআ্োতঃ”--অমিতাভ (নবীনচন্ত্র)

হসম্ত- বাংলা উচ্চারণে শব্দের আদি বা উপাস্ত স্বর ধ্বনিত (9006176) বা দীর্ঘ করিবার জন্য অকারাস্ত তৎসম শবের সাধারণতঃ অন্ত্য ব্বর লুপ্ত হইয়া থাকে যেমন, 'জল' “বন? সাঁধক', “সমতল”, ইত্যাদি এই সমস্ত শব্দের উচ্চারণে আদি কিম্বা! উপধাবর্ণে জোর দিয়া উচ্চারণ কর! হয়, সেই জন্ট অন্ত্যন্বর পর্যন্ত ধ্বনি-সাম্য রক্ষা কর! সম্ভব হয় না) সেইজন্ত শব্গুলির অস্ত্যস্বর ("অ?) উচ্চারিত হইতে পারে না। ইহা বাংল! উচ্চারণের একটা বৈশিষ্ট্য কিন্তু বাংল! লিখন-সৌকর্যের জন্য এই প্রকার শবে হসম্ভের চিহন কদাচ ব্যবহৃত হয় মা। বাহ আরুতিতে শরবগুলি সংস্কৃতির অনুরূপ কিন্তু উচ্চারণতঃ ্রকুতপক্ষে ইহার! বাংলা উচ্চারণ বানানের এই পার্থক্যের জন্

১২ শব্ধ উচ্চারণ তৎসম শব্দের সন্ধি সমাসে নিত্য ভ্রান্তি ঘটিতেছে। অনেকের ধারণা, এমন ক্ষেত্রে হসন্ত-চিহ্নাটি ব্যবহার করিলেই সকল বিড়ম্বনার অবসান হয়। কিন্তু কার্্যতঃ তাহা সম্ভব নহে হসস্তপদ শব্দের সংখ্য। বাংলার এত অধিক যে তাহাতে চিহ্ন প্রয়োগ করিতে গেলে লিখন এবং মুদ্রণের শ্রম অনেক পরিমাণে বাড়িয়া যায়। তবে যে সব শবে সংস্কৃতেও হসন্ত- চিহ্বের প্রয়োগ হয় তাহাতে বাংলায় লিখিবার কাঁলেও হসন্ত-চিহ্ অপরিহাধ্য। যেমন, 'বীমান্*, “আশিস্*, “তুর ইত্যাদি সংস্কৃত হুসন্ত উচ্চারিত হয় না, অথচ বাংলায় হসন্ত উচ্চারিত হয়, এমন স্থলে হসন্ত-চিহ্ন ব্যবহার ন। করাই বাঞ্ছনীয়।

সংস্বত “ক্ত', “তস্ঠ, “ফেয়” “অনীর গ্রতৃতি প্রত্যয়াস্ত শব্ষের বাংল উচ্চারণে অস্ত্য স্বর রক্ষিত হয় যেমন, 'গত', “ভীত', “সতত”, রি | “গাঙ্গেয়*, “করণীয়, অগ্রজ", 'আত্মজ', 'খগ' ইত্যাদি

শব্দের উপান্ত স্বর যদি '্র' হয়, তবে অন্থ্স্বর রক্ষিত হয়; যেমন “বৈধ', “বৈর', তৈল”, 'শৈল' ইত্যাদি

পূর্বববঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে অকারান্ত তৎসম শবের উচ্চারণে একটু পার্থক্য আছে। পূর্ববঙ্গের উচ্চারণ পশ্চিমবঙ্গ হইতে অধিকতর হসস্ত- প্রবণ। পশ্চিমবঙ্গের উচ্চারণে তর" “তম' গ্রত্যয়ান্ত শব্দের ( যেমন, “গুরুতর”, প্রিয়তম” ) অন্ত্ন্বর রক্ষিত হর কিন্ত পূর্ববঙ্গের উচ্চারণে ইহাদেরও অন্থযস্বর বিসঙ্জিত হইয়া থাকে। পশ্চিমবঙ্গের উচ্চারণে “কালীপদ' পূর্ববঙ্গে 'কালীপদ্‌, (সেইজন্য ষ্টা বিভক্তিতে 'কালীপদ'র “কালীপদের' এই দ্বিবিধই প্রয়োগ পাওয়া যায় )।

পূর্বেই বলিয়াছি, শব্দের হসন্ত উচ্চারণ করা বাঁংলার একটা বৈশিষ্ট্য এমন কি অনেকগুলি অ-কারাস্ত তৎসম শবশেষেও নৃতন হসন্ত বিভক্তি যৌগ করিয়। উচ্চারণ কর! হইয়া থাকে যেমন, সংস্কৃত “মত” খাঁটি

তরতসম শব ১৩

শ্্ল জিত | রে লিট সত জাস্ট রসি পি কউ

বাংলা উচ্চারণে “মতন্‌ঃ | উচ্চারণতঃ এই হসস্তের এতদূর বিস্তৃতি হইয়াছে যে, কোন কোন ক্ষেত্রে আ-কারান্ত ই-কারাত্ত শবশেষেও হসন্ত বিভক্তি যোগ করিয়া বাংল! উচ্চারণান্্যায়ী নূতন শব গঠন করা হইতেছে যেমন, 'নানান্‌' (নানা ) “রঙ্গিন (রঙ্গী)।

অনুজ (বা অর্বাচীন তৎসম ) শব্দ

বাংল। ভাষায় সংস্কৃতের প্রভাব বিডতির সঙ্গে সঙ্গে কতকগুলি খাঁটি বাংলা শব্দ সংস্কৃতের আরুতিতে গঠিত হইতেছে যেমন, “বাড়রি'র বাহার! ওঝা ( উপাধ্যায়) তাহারা এতকাল 'বাড়ুয্যা”, 'বাড়ুয্যে” বাড়জ্জে থাঁকির1 “বন্দ্যোপাধ্যায়” হইয়া গেলেন 'চাঁটুত্া' 'চাটুষ্ে” 'চাটজ্জে'রাই ব। ছাড়িবেন কেন? তাহারাও দেখাদেখি হইলেন, “চট্টোপাধ্যায়”, "গান্ুলিরা'ও হইলেন "গঙ্গোপাধ্যায় এই জাতীয় শব্দ বাহাতঃ সংস্কতের আরুতিতে গঠিত হইলেও মূল প্রকৃতিতে তৎসম শব্দ নহে। ইহারা বাংলার আমলেই অতি আধুনিক কালে 'গঠিত এবং শুধু আরুতি-সামের জনই ইহার! তৎসমের মর্যাদা পাইতে পারে

আধুনিক সভ্যতার উপযোগী ভাব প্রকাশ করিবার নিমিত্ত বাংল! ভাষায় কউকগুলি শব্দের উদ্ভব হইয়াছে ; ইহাদের আকৃতিও সংস্কতের অনুরূপ) যেমন, 'প্রাগৈতিহাসিক+, “কথাসাহিত্যিক, স্বায়ভশীসন+, 'রক্ষণগ্রাল', 'পৃষ্ঠপোষক' ইত্যাদি কিন্তু মূল সংস্কৃত শব্দকোষের সহিত ইহাদের কোন সম্পর্ক নাই। উক্ত উভয়বিধ শব্দকে অনুজ শব্দ. বা অর্ধাচীন ততস্ম শব্দ বলা যাইতে পারে

কতকগুলি শন্দ আবার এমন আছে, বাহারা মৃলতঃ সংস্কৃত হইতে জাত এবং 'প্রারুত শব্দ রি বাংলার আসিয়। তাহারা তৎসম শব্দরূপেই গৃহীত "হইতেছে যেগন, “প্রকট”, বিকট", প্ুভ্তল” (তাহা হইতে পুনরায় 'পুন্তলিক।', “পৌন্তলিকতা' ইত্যাদি ), থুর") ( এমন কি এই প্রাক্কত শব্দটি সংস্থতে প্রবেশ করিরা বিশুদ্ধ সংস্কৃতের মধ্যাদা লাভ

অনুজ শব ১৫ করিয়াছে-ক্ষুগ্রানি হরিতাং খুরৈঃ"-_কালিদাস, 'কুমারসম্তবম্ঃ )। ইহা- দিগকেও এই শ্রেণীর অন্তভূক্ত করা যাইতে পারে।

এই প্রকার সমস্ত শবেরই বানান-গঠনে সংস্কৃত ব্যাকরণেরই নির্দেশ মানিয়া লওয়া হয়, সেইজন্য ইহাদের বানান সমস্তামূলক নহে যে সমস্ত শব মূলতঃ আদৌ সংস্কত নহে যেমন, “চষ্টোপাধ্যায়ের' 'চট্ট' তাহাদের বানানও যথাসস্তব সংস্কৃতের ব্যাকরণানুযারীই হওয়! কর্ব্য। এইভাবে তৎসম বানানের সমগ্র রীতিই একটি বিশেষ প্রণালীবদ্ধ হইয়া! আসে এবং তাহ! দ্বারা সাধারণ নিয়ম প্রবর্তনের সুবিধা হয়।

অর্ধতৎসম শব্ধ

তৎসম শবের প্রাদেশিক বা লৌকিক ধ্বনি-বিকৃতি (35017500 ০০::19807) দ্বারা যে সমস্ত নৃতন শের স্থ্টি হইয় থাকে তাহাদিগকে অর্ধতৎসম শব্ব কহে। যেমন, “ব্যাভার, (ব্যবহার ), ' 'পাচিত্তির', পাচিভি” (প্রায়শ্চিন্ত), পেক্গাম' (প্রণাম )। এই সমস্ত শবের বিশেষত্ব এই যে, ইহারা ভাষাতত্বের মূলনীতি অনুষায়ী ক্রমে পরিবন্ঠিত

না হইগলা তৎসম শব হইতেই প্রাদেশিক “উচ্চারণান্যায়ী গঠিত হইয়া থাকে সেই জন্য ইহাদের জন্ম উচ্চারণমূলক এবং 'বাংলার বিভিন্ন প্রাদেশিক উচ্চারণে পার্থক্য হেতু একই তৎসম শব বিভিন্ন অর্ধ- তৎসম শব্দে পরিবন্তিত হয়। যেমন, “কাঁন”, “কান্ু', “কেষ্ট”, একে”, কেটে, কিক” পকিষ্কা”, কিছ? ( কৃষ্ণ )।

সমরূপ- অদ্ধতৎসম শব্বকে ইহাদের আকুতি-বিভিন্নতার জন্তয মূলতঃ দুই ভাগে বিভক্ত কর! যায়। যে সমস্ত তৎসম শব্দ উচ্চারণে বিকৃত হইয়াও বাহ্যত: সংস্কৃতের আকৃতি অক্ষু্র রাখিয়াছে তাহাদিগকে সমরূপ অর্ধতৎসম বলা যাইতে পারে যেমন, “ইতিমধ্যে ( ইতঃমধ্যে ), নিন্দুক (নিন্দক ), “ব্যবসা” (ব্যবসায় ), 'নাগেশ্বর' ( নাঁগকেশর ), ভাদ্রবধূঃ (ভ্রাভবধু )। এই সমস্ত শব্দ মূলতঃ তৎসমের বিক্লত-উচ্চারণ-জাত হইলেও বাহ্যত: প্রকৃত তৎসম শব্দ বলিয়াই ভ্রম হয়। উহাদের বানানও সর্ববতো ভাবেই সংস্কতমূলকই হইয়। থাকে অতএব তৎসম শব্ধের বানানে যে রীতি নিদ্দিষ্ট আছে তাহা ইহাদের উপরও আরোপ্য

অদ্ধতৎসম শব্ধ ১৭

বিবমরূপ-কিন্ত' আর এক প্রকার অর্দতৎসম শব আছে যাহাদের উচ্চারণ প্রাদদেশিকতা-হুষ্ট অত্যন্ত বিরত বলিয়। বাহ্যতঃ তৎসমের কোন লক্ষণই প্রায় প্রকাশ পা না। যেমন, “ছরাদ”, “রাদ”, “ছেরাদ্দ', হবাদ' (শ্রাদ্ধ); 'শীগগির" কথ্য ভাষায়ই ইহাদের ব্যবহার অধিক, তবে কোন কোন শবের গাধুভাবায় প্রয়োগ দেখিতে পাওয়া যায়। ইঠ1দিগকে বিষমরূপ অদ্ধতৎসম বল। যাইতে পারে ইহাদের বানান সর্বদাই উচ্চারণমূলক হইয়। থাকে, সেইনন্ত ইহাদিগকে কোন নির্দিষ্ট বানানের রীতি অবলম্বন করিয়া চলিতে দেখ! যায় ন1। ইহাদের বানানই সমস্ত।মুলক ; তবে পূর্বেই বলিয়াছি এই সমস্ত শব্দের সাঁধুভাবায় ব্যাপক প্রচলন নাই, সেইজন্তই ইহাদের সমস্ত। গুরুতর নহে যে অল্পসংখ্যক বিষমরূপ শব্দের সাধুভাষায় প্রচলন আছে তাহাও সর্বতোভাবে তত্ভব (পরে দ্টব্য) শকেের বানাদুনর রীতিই অনুসরণ করিয়। থাকে

তদ্ভব শব্দ

যে সমস্ত শব্দ মূলতঃ সংস্কত শব্দ হইতে জাত হইয়া নিয়মিত পরিবর্তনের ভিতর দিয়া রূপান্তরিত হইতে হইতে আধুনিক কাল পর্যন্ত চলিয়া আসিয়াছে, তাহাদিগকে তত্তব শব্ধ কহে। যেমন, সংস্কৃত “হস্ত? ' গ্রাকত “হথ' বাংল "হাত; সংস্কৃত “বৃদ্ধ' প্রারুত “বডঢ' বাংলা বিড়? এই জাতীয় শবই ভারতীয় প্রত্যেক প্রাদেশিক ভাষার নিজস্ব সম্পদ বঙ্গভাষায় এই সমস্ত শব্দের সংখ্যাই সর্বাপেক্ষা অধিক এবং ইহাদের বানানই সমস্ত।-মূলক।

এই সমস্ত তদ্ভব শবের বানানের উপর মূল সংস্কৃত, প্রাকৃত, মাগদী- অপতভ্রংশ ইত্যাদি ষেষে ভাষার মধ্য দিয়া আসিয়া .ইহারা বঙ্গভাষায় বর্তমান আকার লাভ করিয়াছে তাহাদের প্রত্যেকটিরই অগ্নবিস্তর প্রভাব দেখিতে পাওয়। যায়। প্রাচীনতম বঙ্গভাষার যে নিদর্শন পাওয়া যায় তাহাতে বাবহৃত তত্তভব শবের বানানে মাগধী অপত্রংশের প্রভাবই অধিক' ছিল এবং ইহা৷ একান্তই অস্বাভাবিকও নয়। কারণ তখন সবে মাত্র বঙ্গভাষা অপত্রংশের গর্ভ হইতে জন্মলাভ করিয়াছে অতঃপর মধ্য-যুগের গ্রথমভাগের বঙ্গভাষায় তদ্ভব শব্দের বানানে কিছু কিছু প্রাক্কতের প্রভাবও লক্ষিত হয়। কিন্তু বর্তমানকালে সংস্কতের প্রভাব বাংল! শবের বনানেও ভ্রুত বিস্তৃতিলাভ করিয়া প্রাকৃত প্রভাবকে পরাজিত করিয়াছে

এখন প্রশ্ন হইতে পারে তণ্তুব শব্গগুলি যখন বঙ্গভাষার নিজন্ব সম্পদ তখন ইহাদের উপর আর প্রার্কৃত কিন্বা! সংস্কতের প্রভাব সমর্থন ন!

তদ্ভব শব ১৯

করিয়া ইহাদের জন একটা নিজন্ব উচ্চাণন্ারী বানানের রীতি স্থির কর! আবশ্তক কি না।

সংস্কতের অনুযায়ী আমর। বাংলা বর্ণমালার মধ্যেও দ্বাদশটি স্বরবর্ণ ছয়ত্রিশটি বাঞ্জনবর্ণের স্থান দিয়াছি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তৎঘম শব্র বানানের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য বাংলায় এই আটচল্লিশটি বর্ণের প্রয়োজন হইলেও তত্তব শব্দের বানানের জন্য এতগুলি বর্ণের প্রয়োজন হয় না। এই জন্য কেহ কেহ বাংলা বর্ণমালার সংগ্কার করিবার পক্ষপাতী কিন্ত পূর্বেই বলয়াছি যতদিন বাংলা শব্দকোষে অন্ততঃ একটি তৎসম শবেরও স্থান থাকিবে ততদিন পর্যান্ত এই আটচল্লিশটি বর্ণকেই বাংল! বর্ণমালাতেও বক্ষা করিতে হুইবে |

এখন প্রশ্ন হইতেছে যে, বাংল! তদ্ভব শকের বানানে সংস্কৃত প্রাকৃত প্রভাবের মধ্যে কোনটি গ্রহণ কর! কর্তব্য » যেমন, বাংলায় “কাষ' (স “কার্ধ্য ) লেখা উচিত কি “কাজ' (প্রা কজ্জ' ) লেখা উচিত ? শেষ? (স শযষা) লেখাই কর্তব্য কিন্বা “শেজ” (প্রা 'শজ্জা” ) লেখা কর্তব্য £ মাগধী অপতভ্রংশের প্রভাবের কথা না তুলিলেও চলে কারণ, তাহার প্রভাব যাহ। ছিল আধুনিক কাল পর্য্যস্ত তাহার চিহ্নমাত্র আর নাই। আধুনিক বানানে প্রাকৃতের প্রভাবও অতি সামান্ত ; তথাপি কতকগুলি শব্দ প্রাকত সংস্কত এই উভয়ের নির্দেশ মানিতে গিয়। কোন বিশেষ নিয়মের শাসনে আসিতে পারিতেছে না।

একটা ব্ষিয় এইস্লে চিন্তা করিলে দেখা যাইবে যে, যদিও তস্তব শবের উপর প্রাকৃত বানানের প্রভাবই অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল, তথাপি বাংল! ভাষ।র জন্মকাল হইতেই সংস্কৃতের প্রাবল্যে প্রাকৃত কোন কালেই ইহার উপর কোন নিয়মিত প্রভাব স্থাপন করিতে পারে নাই। তদুপরি বাংলায় যতই তৎসম শবের ব্যবহার বিস্তৃতিলাভ করিতেছে ততই প্রাক্কৃতের

২৩ শব্দ উচ্চারণ

সর্ববিধ প্রভাব প্রায় লুপ্ত হইবার উপক্রম হইয়াছে সংস্কৃতের সর্বপ্রকার নিয়ম অনুসরণ করিবার প্রতি বাংলাভাষার একট! স্বাভাবিক প্রকৃতি জন্বিয়া গিয়াছে ; ইহাতে বাংলার নিজস্ব উচ্চারণের মর্ধ্যাদা অনেক সময় ্ষুপ্ন হইলেও, ইহার গতিরোধ করিবার উপায় নাই। অতএব আধুনিক বঙ্গভাষার তপ্তব শবের বানানে প্রা্কতের স্কলে যাহাতে সংস্কত ব্যুৎপত্তির উপর লক্ষ্য রাখিরা বানান গঠন করা হয়, তাহার প্রতিই লক্ষ্য রাখা কর্তব্য এইভাবে “কাধ? “শে প্রভৃতি বানানই গ্রাহা। ইহ! দ্বারা একট। নির্দিষ্ট নিয়মান্তবন্তিতার মধাস্থ হইয়া ভাষার বানানের দৈত-শাস:নর অবদান করা যাইতে পারে বিষয়টি একটু বিস্ততভাবে আলোচন! করিরা দেখ। যাউক। দ্রীর্থস্বর-_বাংলার স্বরবর্ণের দীর্ঘ উচ্চারণ হয় না, সমস্তই স্ব কিন্তু সংস্কতের অনুযায়ী দার্ঘবর্ণগুণি আমর! তদ্ভুবশব্দের বানানেও বাবহার করিয়। থাঁকি | যেমন, পীঘি” ( দীর্ঘিকা ), ্ুত।' (স্তর) চুণ' ( সচূর্ণ) ইত্যাদদি। ইহাতে উচ্চারণের কোন পার্থকা হয় ন।, তবে সংস্কৃতির নিষ্ঠা রক্ষিত হুর, এই মাত্র !

কেহ কেহ তর্ক করিয়। থাকেন যে, তত্ভব শবে দীর্ঘ স্বর ব্যবহারের প্রয়োজন কি? সমস্তই উচ্চারণানুযায়ী হন্থ করিয়। লইলে বানানের কাজও অত্যন্ত সহজ হইয়া আসে। ইহা সম্পূর্ণই যে. যুক্তিসঙ্গত তাহা অস্বীকার করিবার উপার নাই। বানানে দীর্ঘস্বরের ব্যবহার তৎসম শব্দের বেলায় আমর! নিষ্ঠার সহিত পালন করিতে পারি, কিন্তু যাহ! খাটি বাংলা শব্দ তাহার উপর খাঁটি বাংল। উচ্চারণানুযায়ী বানান গ্রয়্গ করিতে দোষ কি ?

প্ররুতই ইহার বিরুদ্ধে ভাষাতত্বসম্মত কোন যুক্তি নাই। কিন্ত আমাদের সংস্কার-বিয়োধী রক্ষণশীল মন সাধারণতঃ প্রাচীন রীতির

ভগ্তব শব ২১

বতদূর সম্ভব মন্যাদ। রক্ষা করিয়া চলিবারই পক্ষপাতী ; অতএব এই উপদ্রব মানিয়া চলা ভিন্ন গত্যান্তর নাই, তবে ইহাতে শব্দের ব্যৎপত্তি- জনের যে ভবিধ। হয় তাহাঁও অস্বীকার করিবার উপায় নাই

এ* দীর্ঘ স্বরগুলি সংস্কতের আমলেও যে কতদুপ উচ্চারণে বিশ্তুদ্ধত। রক্গ। *রিয়। আসিরাছে, সেই বিষয়েও যথেষ্ট সন্দেহের কারণ আছে। কারণ, একই শব্দের অনেক সময় বিকল্পে ত্স্ব- দীর্ঘ-যুক্ত দ্বিবিধ বানানই দেখিতে পাওয়া যার। যেমন, পশণি', “শেণী' ) “বেণি', এবেণী' “রানি”, 'রাজী' ; “মনি, ধিমনী' ; “তরি, “তরী? ; পক্রটি', “্ধটী ) ধরণি', 'ধরণী' “ভঙ্গি, ভঙগী? ; তিন, তনু চচঞ্া, চিক? - হি”, ভিনূগ £ শক্ত, শিল্তা শিন্বুক', শিক? 5 ভিল্ুক?, "ভলকে? ইত্যাদি ইনার অর্থ এই মে এই সমস্ত শব্দের উচ্চারণের “কান স্থির তা ছিল না। সংস্কত পদ্ছে ত্বস্ব দীর্ঘেব প্রতি কবিদিগের এত ক্বক্ষা সতর্কতা দেখিয়া কেহ যেন মনে না কবেন যে, তৎকালীন শব্দমাহেরই উচ্চারণে এই রীতি প্রচলিত ছিল। করণ, কবিতার উচ্চারণ সর্দদাই কৃত্রিম মনে ভয়, এই দীর্ঘস্বরের মতি 'অল্পই উচ্চারণ ভইত ; তবে দুই হ্রশ্বশ্বরের স্দিস্থান কিন্ব। স্নীলিঙ্গ শব্দের পার্থকা নির্দেশ করিবার জন্য বৈয়াকরণের। ইহাকে সর্বদাই বাপ্ার করিয়। আসিতেন্েন অতএব ভারতীয় ভাষাসমূহের বানানে দীর্ঘস্বরের এই অন্যাষা স্থানাধিকার অতি প্রাচীনকাল হইতেই চলিয়। আসিতেছে বাংল। ভাষা সংস্কতেব নিকট নিজের এতটকু খণ স্বীকার করিলে .উত্তমর্ণের 'এই অত্যাচারটুকু তাহার নীরবে সহ করিয়া যাওয়া ভিন্ন উপায়ান্তর নাই। পূর্বেই বলিয়াছি, শবের ব্যুৎপত্তিষ্াানের জন্য বানানে ইহাকে রক্ষা করিয়া চলাই কর্তব্য অতএব তত্তব শবেও

স্কৃত-বুযুৎপত্তির উপর লক্ষ্য রাখিয়া দীর্ঘস্বরের ব্যবহার কর্তব্য

দস্ত্য 'ন? মূর্ঘন্য 'ণ?_প্রাকত বৈয়াকরণেরা তাহাদের বর্ণমালা!

২২ শব্ধ উচ্চারণ

হইতে দন্ত 'ন' উচ্ছেদ করিরা মূর্দহ্য 'ণ' কে রক্ষা করিয়াছিলেন | ইহার কারণ এই যে তৎকালে দস্ত্য “ন” উচ্চারণ হইত না, মৃদ্ধন্য “ণ'রই উচ্চারণ হইত প্রাকৃত বর্ণমাল। তৎকালান -উচ্চারণানুধায়ী গঠিত, সেইজন্ঠ তাহারা মৃদ্ধন্ত 'ণ'রই ব্যবহার করিয়াছেন

আধুনিক ভারতীয় প্রাদেশিক ভাষাসমূহেও দস্ত্য ন'র বিশুদ্ধ উচ্চারণ হয় না, প্রকৃত পক্ষে মুদ্ধন্য 'ণ'রই উচ্চারণ হয় ইহা একটু সামান্ত পরাক্ষা করিলেই আমর! অনায়াসে বুঝিতে পারি “ত' হইতে 'ধ পধ্যন্ত বর্ণগুলি আমর। লিহ্বাগ্রদ্বারা দন্তমূলে আঘাত করিয়া উচ্চারণ করিয়া থাকি; কিন্তু “ন' উচ্চারণ করিবার কালে একটু অনুভব করিলেই বুঝিতে পারি যে, সহস। জিহ্বা গ্রভাগ পশ্চাদ্দিকে সরিয়! গিয়। মুদ্ধন্য বর্ণের উচ্চারণ-স্থানে আঘাত করিবার চেষ্টা করিতেছে আর "ট' হইতে ণি' পর্য্যন্ত বর্ণগুলি সুখগহ্বরে বে স্থানে উচ্চারিত হইয়া থাকে, মুদ্ধনা 'ণ'ও অক্েশে একই স্থানে উচ্চারিত হয় ইহা হইতে স্পষ্ঠতঃই বুঝিতে পার! যায় যে, উচ্চারণতঃ বাংলায় দত্ত 'ন' নাই, মুদ্ধন্য 'ণ'ই আছে অতএব শব্দে ধার! দল্ত্য 'ন” মুদ্ধনা “ণ'র মধো একটিকে রক্ষ। করিবার পক্ষপা হী তাহারা প্রা্চতের বিধানানুযায়ী মুদ্ধন্য 'ণ'কেই রক্ষ। করিতে পারেন দন্থ্য নকে নয়।

আচাধ্য রামেন্দ্জন্দর ভ্রিবেদী মহাশয় বলিয়াছেন (শব কথা' ) যে, আনরা দন্ত মুদ্ধন্য অন্ুনাসিকের স্বতন্ত্র উচ্চারণ করি ন। সত্য, কিন্তু বখনই যুক্তাঞক্ষরের উচ্চারণ করিতে যাই তখনই এই উভ্ভষ অন্থনাসিকের উচ্চারণ-স্বাতন্ত্রা উপলব্ধি করিতে পারি অর্থাৎ তাহার মতে শশাস্ত' উচ্চারণ করিবার কালে দস্ত্য “ন' প্ঘণ্ট।' উচ্চারণ করিবার কালে প্ররুতই মুদ্ধন্য ণ'র উচ্চারণ করিয়। থাকি কিন্তু ইহাও সত্য নহে। 'শান্ত' শকের দ্রুত উচ্চারণে অন্ুনাসিকের উপর তাহার পরবর্তী দস্ত্য বর্ণের

তদ্ভুব শব ২৩

('ত” র) উচ্চারণাভাস সংক্রমিত হইলেও ধীরভাবে উচ্চারণ করিলে দেখ। যাইবে যে "শান্ত'র 'ন'র উচ্চারণস্থান প্রকৃতপক্ষে দত্ত নয়, ইহ! মুর্ধী। যেমন, 'শা-ন্ত' |

প্রাকৃতের উচ্চারণ হুইতেও বুঝিতে পার! যায় ষে, বনু প্রাচীন কাল হুইতেই ভারতীয় ভাষাসমূহের উচ্চারণ হইতে দস্ত্য অন্ুনাষিকের অস্তিত্ব লুপ্ত হইয়াছে আর্যযেরা এদেশে আসিবার সময় বাহির হইতে দন্ত্য অনুনাসিকেরই উচ্চারণ লইয়া আসিয়াছিলেন, কিন্ত অল্নকাল মধ্যেই ভারতীয় অনাধ্যদিগের সহিত সংযিশ্রণের ফলে এই দন্ত “ন"'র উচ্চারণ লুপ্ত হইয়াছে কারণ ভারতীয় অনাধ্যভাষ। (দ্রাবিড়) ৃদদন্য বর্ণ-ধ্বনি-প্রবণ ছিল।

কিন্তু আধুনিক ভাষাসমূহের বর্ণমালায় সংস্কৃতের প্রভাব বশতঃ দত্তয 'ন* আসিয়া পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে এমন কি প্রাকৃত অপভ্রংশে মৃদ্ধন্য 'ণ'র অব্বত্র ব্যবহার দেখিয়! পরবস্তী কালে সংস্কৃত পণ্ডিতের! “্ণত্বমিচ্ছন্তি বব্বরাঃ* ইহাই মনে করিতেন। এইভাবে পণ্ডিতি বাংলা এই ণত্ব অতি সতর্কতার সহিত, কেবলমাত্র যেখানে সংস্কতের নির্দেশ আছে সেই প্রকার ক্ষেত্রে এবং সংস্কৃত ব্যুৎপত্বির উপর নির্র করিয়৷ ব্যবহার করিতে লাগিলেন যেমন, “কাণ' (কর্ণ) “সোণ!' (ন্বর্ণ )।

কিন্তু ক্রমে দন্ত্য 'ন' প্রভাব এতই বিস্তৃতিলাভ করিতে লাগিল ষে বুৎপত্বির উপরও লোকের শ্রদ্ধা কমিয়া যাইতে লাগিল। তাহারা তর্ক করিতে লাগিলেন যে, সংস্কতের শব্দে যে কারণে মৃদ্ধন্য 'ণ' হয়, সেই কারণ যদি তপ্তব শব্দে না থাকে তবে আর তন্তব শবেই বা! মূর্ধন্য “৭'র বিড়ম্বনা কেন? অতএব “কান? (কর্ণ) 'সোনা' (স্বর্ণ) এই প্রকার বানানই গ্রাহ্থ। এমন কি 'বানান' শব্টির বানান লইয়াও এই

১৪ শব্ধ উচ্চারণ

গোলযোগ চলিয়। আসিতেছে। স্বীয় ললিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় মৃদ্ধন্য 'ণ? দিয়| “বাণান-সমস্তা'্র স্যষ্টি করিয়াছিলেন, কলিকাতি। বিশ্ববিদ্যালয় দস্তা “ন” দিয়। “বাংলা বানানের নিরম' গঠন করিয়াছেন বানানের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি যখন দন্ত “ন' বাবহারের দিকে তখন তাহাকে রোধ করিবার উপায় নাই।

স্ৃত ণত্ব বিধানের শিয়মটি সর্বতোভাবে ভাষাতত্বান্থমোদিত ; কারণ, খে”, 'র”, “ঘ" এই বর্ণগুপির উচ্চারণ-স্থান প্রায় মদ্ধী, সেইজন্য শব্দমধ্যে ইহারা পুর্বে থাকিলে পরবর্তী অনুনাসিক নাঞ্জনেও মূদ্ধনা উচ্চারণ সংক্রমিত হইতে বাধা সেইলন্ত তদ্ভুব শব্দে এই সব স্কুলে মর্দন্য "৭ দিবাই বানান কর! উচিত। যেমন, “রাণী, (রাজ্জী॥ “রাগ, ( রক্ন) শ্যাদি এইভাবে সংস্কৃতের প্রতি আমাদের যে“কেবল নিষ্ঠা প্রদণিত হর সাহা নহে, প্বনিতত্বেরও মধ্যাদা অক্ষু্ থাকিয়া যায়। কিন্তু তদ্ছুব একে যে ক্ষেত্রে ত্ব-বিধি পালনের কারণ বিলপ্ত হইয়া গিয়াছে সেখানে শ্াব অনাবশ্তক মৃ্না ণ'র প্রয়োগ বাঞ্চনীর' নহে। অতএব “কান, ( কর্ণ) “সোনা! স্বণ) “গিরী? (গৃহিনী ) এই প্রকার বানান গ্রাহ্!

স্কতের একটি নিয়ম আছে যে “" “র? ঘর পরবতী হইলেও পদান্তস্থিত দন্ত্য “ন্‌* মুদ্ধন্য “ণ' হয় নাঁ। যেমন, নরান্‌ ; বাংলা তদ্ভবশন্দেরও এই নিয়মটি গ্রহণ করা উচিত, অতএব “তিনি করেণ “আপনি করুণ”,না লিখিয়া “করেন', করুন'ই লেখ! উচিত ইহার £একটি কারণ এই যে স্বরবজ্জিত ব্যঞ্জনের প্রকৃত পক্ষে পূর্ণ উচ্চারণ হয় না। ,সইজন্য & জাতীয় শব্দে খ' 'র” 'ষ থাকিলেও পরবর্তী অন্ুনাসিকের উচ্চারণ-ক্ষেত্রে পূর্বোচ্চারিত মূদ্ধন্য বর্ণের পরিপূর্ণ প্রভাব কার্ধ্যকরী হইতে পারে না।

তত্ভব শব ২৫

ভ"য় বিন্দু ড়-_আধ্যগণ ভারতবর্ষে আসিবার পূর্ব বর্খের কোন বর্ণ অর্থাৎ মুর্ধন্ত বর্ণ উচ্চারণ করিতেন না; পরবর্তী কালে ভারতীয় অনাধ্য ভাষার সংমিশ্রণে আসিয়। তাহারা সর্ব প্রথমে এই বর্ণগুলি উচ্চারণ করিতে আরম্ভ করেন সেইঙ্ন্য বেদ উপনিষদের ভাষার মূর্দন্য বণের উচ্চারণ অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু পাণিনি যখন সংস্কৃতির ব্যাকরণ গঠন করেন তখন এই বর্ণগুলির ব্যবহার এত ব্যাপক হইয়া পড়িয়াছিল ঘ, তিনি ইহার্দিগকে সংস্কৃত বর্ণমালার গ্রহণ করিতে বাধ্য ইয়াছিলেন। ধাণিনির ব্যাকরণ দ্বার। সংস্কতের বিকৃতি-পথ রুদ্ধ হইল সত্য কিন্তু ভাষার নিঙ্জস্ব গতি-প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নই রহিয়! গেল। তাহারই ফলে প্রাকৃত ভাষায় অসংস্কৃত থে কতকগুলি বর্ণের উদ্ভব হইল মূর্দন্ত বর্ণের শ্রেণীভুক্ত “ড়” তাহাদের অন্ততম কোন অনাধ্য *( দ্রাবিড় ) ভাষার প্রভাববশতঃ বাংল। তদ্ভুব শে ডর অত্যন্ত ব্যাপক প্রচলন হইতেছে সংস্কতের প্রতি নিষ্ঠা দেখাইতে গিয়া ভাষার এই স্বাভাবিক গতি রোধ করিবার কোন কারণ

নাই এবং তাহা সম্ভবও নহে; সেইজন্য সাধু উচ্চারণান্ুযায়ী নিয়মিত ভাবে ড'র ব্যবহারকে তদ্ছব শব্দের বানানে গ্রহণ করা হইয়াছে

সাধারণতঃ নিয়লিখিত নিয়মানুষারে তন্ভব শব্দে ডর ব্যবহার £খিতে পাওয়া যার। (১ মূল শব্দে টবর্গের কোন বর্ণ থাকিলে তংস্থলে তত্তব শব্দে “ড় হয়। যেমন, “কাপড় ( কর্পট ), পড়া” ( পঠন ), “ওড়” (গড় )। . (২) মূল শবে বর্গের প্রথম, দ্বিতীয় তৃতীয় বর্ণ থাকিলে তংস্থলে তাহার তত্ব শবে “ড়” হয় ; যেমন, “পড়া” (পতন), হাড় (অস্থি), “মাড়, (মর্দন )।

২৬ শব্দ উচ্চারণ

(৩) মূল শবে “ঞ' থাকিলে তংস্থলে তাহার তদ্ভব শবে “ড়? হয়ু যেমন, “সাড়া, ( সংজ্ঞ। ), “ঝড়? (ঝঞ্ধা )।

পূর্ববঙ্গের কথ্য ভাষায় “ডর উচ্চারণ একেবারে নাই, তংস্থলে অন্তঃস্থ বর্ণ 'র'রই উচ্চারণ হয়। বাংলার পশ্চিম-সীমান্তে সর্বত্রই প্রায় "ডর উচ্চারণ হয়, "রর হর না। সেইজন্ত এই ছুই অঞ্চলের লেখকমাত্রেরই অসতর্ক বানানে এই “র “ডর বড় গোল রহিয়। যায়। একমাত্র সাধু উচ্চারণ উল্লিখিত নিয়মের প্রতি লক্ষ্য রাখিলে এই ভ্রাস্তির হান্তু হইতে নিষ্কৃতি পাওয়া যাইতে পারে।

জি, ঙ, অনুন্থার- সংস্কৃত সংযুক্ত বর্ণ "জর স্থলে বাংলা তব শবে “ড “১ এই ছুইই লিখিবার রীতি প্রচলিত আছে যেমন, 'রং” 'রডঙ১ (রঙ্গ )) “বাংলা”, বাঙলা (বাঙগাল। )) গাং, গাও (গঙ্গা) ইত্যাদি। এই উভয় রীতির মধ্যে অবশ্ত 'একটিই গ্রহণ করা কর্তব্য

লিখন-সৌকর্যের জন্য অধিকাংশ স্থলেই এইসব ক্ষেত্রে অন্বস্বার লিখিত হইয়া থাকে ; কিন্তু ডর প্রকৃত উচ্চারণ যে কি সেই সম্বন্ধে প্রকৃত জ্ঞান ন| থাকার চন্য "৬৩ যথেচ্ছ ব্যবহার হইতেও বড় কম দেখ। যায় না?

£্গ” এই সংযুক্ত ব্যঞ্জনটির মধ্যে একটি বর্ণ কবর্গের অনুনাসিক অপরটি এই বর্ণেরই তৃতীয় বণ 'গ” | কণ্ঠ তালব্য বর্ণের অনুনাসিক-: দ্বর়ের এই বিশেষত্ব যে তাহাদের স্বাধীন উচ্চারণ নাই। তাহারা নব বর্গের কোন ন। কোন ব্যঞ্জনের সহিত যুক্ত না হইলে প্রায়ই উচ্চারিত হয় না। মধ্যযুগের বাংলার বানানে 'ঞকে স্বর-সংযুক্ত হইয়! ম্বাধীন- ভাবে ব্যবহৃত হইতে দেখিয়া ( যেমন, 'গোর্সীঞ্রি, "মুঞ্রি” ) অনেক মনে, করিতে পারেন যে, ইহারা বুঝি স্বাধীন ব্যঞ্জন; কিন্তু পূর্বের ঘলিয়াছি যুগের বানান নির্দোষ ছিল ন।।

তত্ব শব ২৭

'” প্রকৃত উচ্চারণ 'উঅ' এবং «ঞ'র উচ্চারণ 'ইঅ' ; অতএব যাহার! সংস্কৃত শবের 'ঙগ' স্থলে 'ঙ' ব্যবহার করিয়া থাকেন তাহাদের শবগুলির এই প্রকার উচ্চারণ হয়, “রউঅ+ (রঙ), 'বাউঅলা? (বাঁঙ লা), 'কাউআল' (কাডাল); কিন্তু আমরা প্রকৃতপক্ষে এই শবগুলির স্বতন্ প্রকার উচ্চারণ করি এবং তাহ অনুস্বার দিয়। লিখিলেই বথাষথ প্রকাশ পাইয়া থাকে ; যেমন, “রং (রঙ্গ), “বাংলা” (বাঙ্গাল)

অনেকে “উ" এ" কে শ্বর-সংযুক্ত করিয়৷ ইহাদিগকে স্বাধীন ব্যঞ্জনের অনুরূপ বানান করিবার পক্ষপাতী যেমন, 'শাঙউন, (শাউঅন), 'গোঙাইনু' (গোউআইনু) ডেঞ্ছে' (ডেইএ)। কিন্ত সাধারণতঃ বাংলায় এইসব ক্ষেত্রে পূর্বববন্তী বর্ণে চন্দ্রবিন্দু যোগ করিরা পরবতী অনুনাসিকের স্বর-ধ্বনি মাত্র রক্ষী করিলেই চলে; যেমন, 'শা গন? “গৌয়াইন্থ', 'ডেয়ে' ; ইহাতে উচ্চারণের কোন পার্থক্য হয় না; কারণ, উচ্চারণতঃ অন্ুনাসিক শবের আদি বর্ণে সংক্রমিত হইয়া মাসে এবং পরবর্তী বর্ণে তাহার আভাস মাত্র রক্ষিত হয়। পূর্বেই বলিয়াছি, যেহেতু উক্ত অনুনাসিকঘয় সংস্কতেও স্বাধীন ব্যপ্তনরূপে বাবন্গত হয় না, সেই জন্য ইহাদ্দিগকে বাংলাতে স্বর-সংযুক্ত করিয়৷ বানান গঠন কর! সঙ্গত নহে।

উদ্ম বর্ণ__মাগবী প্রাকতে সংস্কৃত 'শ" “য" " এই তিনটা উদ্ম বের মধ্য উচ্চারণান্থুযা়ী তালব্য 'শ'কেই রক্ষা করা হইরাছিল। সংস্কৃতেও এই তিনটি উদ্মবর্ণের সর্বত্রই স্বতন্ত্র উচ্চারণ হইত কিনা এই বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের কারণ আছে কারণ, কতকগুলি সংস্কৃত শব্দের বানানে বিকল্পে ছুই এমন কি কোথাও তিনটি উদ্মবর্ণেরই প্রয়োগ হইতে দেখ! যায়। যেমন, 'সেফালিকা', “শেফালিকা' ; কিসলয়', 'কিশলয়”, “কিষলয়+

২৮ শব উচ্চারণ

“কলস”, 'কলশ' ; 'কুসীদ', “কুশীদ”, 'কুষীদ? ; 'কেশর', কেসর' ) -হুর্প্ “শূর্পা ; বিসিষ্ঠ”, বিশিষ্ঠ? ; “কংস', কংশ" দর্ববরী', শশর্বরী') “কশা “ঘা ; 'উষীর', “ধীর ইত্যাদি একই অর্থে একই শব্ধ যে ভিন্ন ভিন্নভাবে উচ্চারিত হইত তাহা মনে হয় ন।। যে ভাবেই বানান লেখ! হউক উচ্চারণ এক প্রকার হইত; অতএব মনে হয়, সংস্ক তেও এই উদ্মবণগুলির স্বতন্ত্র উচ্চারণ রক্ষিত হইত ন1।

বাংলাতেও এই তিনটি উচ্মবর্ণই উচ্চারিত হয় না, একটিই হয়-- পূর্ববন্ে ভাগীরধী-তীরের ভাষায় তালব্য 'শ' এবং বাংলার পশ্চিম সীমান্তের ভাষায় দস্ত্য “সঃ |

প্রাচীন মধ্যযুগের বানানে মাগী, প্রাকৃত অপত্রংশের প্রভাব- বশতঃ তালব্য 'শ' ব্যবহৃত হইত। কিন্তু আধুনিক বাংল! তন্ভব শব্দের বানানে সংস্কতের প্রভাব-বশতঃ বুযুৎপত্ভিব উপর লক্ষা রাখিয়া তিনটি উন্মবর্ণ ব্যবঙগত হইতেছে 3) যেমন, বাণী? ( বংশী); “সরিষা' ( সর্যপ ) 'কাস।'। কাংস্ত )। কিন্তুকোন কোন স্থলে প্রাকুতের প্রভাব এখনও অক্ষু্ থাকিতে দেখা! যায় ; যেমন, 'শীলিক' (সারিকা )।

শব্দের বাৎপততিজ্ঞানের সুবিধার জন্ত সর্ধত্র সংস্কতের আদর্শেই তব শব্দের বানান গঠিত হওয়া! আবশ্তক। যেসব আধুনিক বানানে প্রাক্তের প্রভাব বর্তমান রহিয়া গিয়াছে সেইসব বানানকে বিকল্পে শুদ্ধ বলিয়! নির্দেশ করিয়। তাহাদের সংস্ক.তান্ুরূপ বানান গঠন করিয়া লওয়। কর্তব্য যেমন, শালিক" 'সালিক' (সারিক। )।

বাংল। ব্যতীত হিন্দি মৈথিলি প্রভৃতি ভাষায় মুদ্ধন্য 'ষ'কে “' উচ্চারিত হইতে দেখা যায়। যেমন, “নিষিখ' ( নিমেষ ), 'বরখা' ( বরষা )7 বাংলায় “ষ” উচ্চারণ "শ” বা 'স+ হইতে অভিন্ন বলিয়া এই রীন্তি প্রচলিত নাই।

তদ্তব শব ২৯

কেহ কেহ বলিয়া! থাকেন ('শব্দকথা'-_বামেন্্ন্ুন্দর ত্রিবেদী ) যে, ুক্ত ব্যঞ্জনের উচ্চারণে আমরা তিনটি উদ্মবর্ণকেই স্বতন্ব ভাঁবে উচ্চারণ করিতে পারি। অর্থাৎ দস্ত্য বর্ণের সহিত দত্ত, মুর্দন্য বর্ণের সহিত মৃদ্ধন্য তালবা বর্ণের সহিত তাঁলবা 'শ"-রই আমরা উচ্চারণ করি। যেমন, স্থল", “কষ্টা, “নিশ্চয় (কিন্তু 'প্রশ্ন'র উচ্চারণে উম্মবর্ণ দন্ত্য 'ন' যুক্ত হইয়াও তালব্য উচ্চারিত হয়।) তীহার! বলিতে চাহেন যে, এই শব- গুলির উদ্মবর্ণের উচ্চারণে পার্থক্য আছে

কিন্তু যুক্ত বর্ণের উচ্চারণ-ধ্বনি হইতে কোন বর্ণ-বিশেষের অবিশিশ্র উচ্চারণ-পরিচয় পাইবার উপায় নাই। যেমন, "স্থল উচ্চারণ করিবার জন্ত খন আমরা প্রথম উত্মবর্ণের উচ্চারণ করিতে যাই তখনই ইহাতে যুক্ত 'থ'র দস্ত্য উচ্চারণাভাস আসিয়। সংক্রমিত হইয়া পড়ে। অন্ুনাসিক ব্যঞ্জনের আলোচনায়ও আমি এই প্রকার ধ্বনি-সংক্রমণের কথা উল্লেখ করিয়াছি অতএব কোন বর্ণের প্রকৃত উচ্চারণ-পরিচয় পাইতে হইলে ইহাকে স্বাধীনভাবে উচ্চারণ করির়াই পরীক্ষা কর! প্রয়োজন যুক্ত বর্ণের যুগ্ন উচ্চারণ-ধ্বনি হইতে ইহার প্ররুত পরিচয় পাইবার উপায় নাই।

পৃবের্ব পত্ববিধির 'ভাষাতত্বানুমোদিত কারণ নির্দেশ করিয়াছি। এইবার বত্ববিধির বিষয় একটু আলোচন! করিব।

স্কতের নিয়ম এই যে, “অ' “আ।' ভিন্ন স্বর 'ক+ র' পরে পদমধ্যং “স? ('শ' নয়) “ষ' হয়। যেমন, “নদীষু'। এইখানে বর্ণের উচ্চারণে জিহ্বার ক্রিয়া একটু স্মরণ করিতে হইবে।

'অ” “আ' উচ্চারণ করিবার কালে জিহ্বা নিক্ষিয় অবস্থায় প্রায় দন্ত মূলের নিকটবর্তী থাকে, অতঃপর দস্ত্য 'স' উচ্চারণ করিতে জিহবাকে বিন্দুমাত্রও বেগ পাইতে হয় না। কিন্ধু “ক' ও'র' কিন্বা “ম” “আ;

৩৩ শব উচ্চারণ

ব্যতীত স্বর উচ্চারণ করিয়া জিহ্বার পক্ষে দত্ত্য “স' উচ্চারণ'করা কষ্টকর এবং মূর্ধনা “ষ' উচ্চারণ করাই সহজ। কারণ, এই বর্ণগুলির উচ্চারণস্থান মৃক্ারই সংলগ্র। উচ্চারণ-বিজ্ঞান-সন্মত ষত্বের এই -বিধি তত্তব শের বানানে পালন করিলে সংস্কতের প্রতি যে অন্ধ গৌড়ামি প্রদশিত হইবে তাহা নহে, ইহা! দ্বারা বিজ্ঞানান্নমোদিত একটি নিয়মের আশ্রয় গ্রহণ করার বানানে ব্যভিচারের পথ চিরতরে রুদ্ধ হইবে।

বর্গীয় জ, অন্তঃস্থ ঘ-_প্রারুতে অন্তঃস্থ বর্ণ 'য* ছিল না, স্পর্শবর্ণ ৰগীর “জজ? ছিল। ইহ। দেখিয়! অনুমান কর! স্বাভাবিক যে প্রারুতের যুগে হয়ত অন্তস্থ “ষ'র উচ্চারণ হইত না। কিন্তু মধ্যভারতের আধুনিক ভাষ হিন্দিতে সংস্কৃত-অনুযারী অন্তঃসথ। বর্ণেরও উচ্চারণ হইয়া থাকে প্রাৃতের যুগে এই বর্ণের উচ্চারণ ন! থাকিলে আধুনিক ভাষায় ইহ। কোথা হইতে আসিল?

ইনার উত্তরে এই বলা যাইতে পারে যে, প্রাকৃতের যুগেও হিন্দি প্রদেশে অন্থংস্থ "বার উচ্চারণ হইত, তবে প্রাকৃত বৈয়াকরণের! তাহাদের ভাষার সরলত| সম্পাদনের জন্ত বোধ হয় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত বর্গীয় 'জ'কেই রক্ষ। করিয়। অন্তস্থ “থকে পরিত্যাগ করিরাছিলেন। ইহাতে প্রাকৃত ভাষার উপর প্রাচ্য কোন ভাষার প্রভাবও অনুমান করা অসঙ্গত হইবে ন। |

বাংলার স্পর্শ বর্ণ বর্গীয় 'জ'ই উচ্চারিত হয়, অন্তঃস্থ “ঘ' উচ্চারিত হয় না। এই আনুযায়ী প্রাচীন মধ্য যুগের বানানে ব্যাপকভাবে বীর “জ'র ব্যবহারই দেখিতে পাই কিন্ত ক্রমে ক্রমে সংস্কতের প্রভাব বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কত-ব্যুৎপত্তির উপর লক্ষ্য রাখিয়। বানান- গঠনের প্রবৃত্তি জন্মলাভ করিল এবং তখন হইতেই প্রারকতানুষারী বয় জর ব্যবহার সীমাবদ্ধ হইয়া আসিতে লাগিল। আধুনিক বাংলার

তদ্ভব শব্ব ৩১ বানানে অতি সামান্ত কয়েকটি শবে এখনও প্রাকুতের প্রভাবজাত বর্গীয় *জ'র অস্তিত্ব দেখিতে পাওয়! যায়; বেমন, “কাজ' (