গত ঠোঘ়ও _গ্বিতীয় খণ্ড --

শ্রীপ্পতি চটোপাধ্যায়

প্রথম প্রকাশ শুভ বুদ্ধপুর্নিম। তিথি ১৭ মে ১৯৫৯

প্রকাশক 5 শ্রীরামদাস দত্ত দি ঢাকা! স্টুভেন্টস্‌ লাইত্রের ৫১ শ্যামাচরণ দে স্ট্রীট, কলিকাতা--১২।

প্রচ্ছদপট £ ও্রীঅরুণ চট্টোপাধ্যায়

মুক্রাকর 2 আ্রীরণজিৎকুমার দত্ত, বি-এস্-ন্ি ভোলাগিরি শ্্রিন্টিং ওযার্স্‌ ১১১, সীভারাম খোষ স্ত্রী, কলিকাতা-_-৯ |

লিঘেদন

শাশ্বত ভারত ( ২য় খণ্ড) প্রকাশিত হোলো

এই গ্রন্থখানি এর লেখক সম্বন্ধে আমাদের কিছু নিবেদন আছে।

লেখক শ্ত্রীযুক্ত পশুপতি চট্টোপাধ্যায় বঙ্গীয় সুধী সমাজে স্থপরিচিত। একজন প্রবীণ শিক্ষাব্রতী হিসাবে একাধিক ভূগোলের বই লিখে ইনি যশন্বী হয়েছেন। ভারত-পুরাতত্ব ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়েও দীর্ঘকাল যাবত ইনি পড়াশুনা! ক'রে আসছেন

ভারতীয় সংস্কৃতির একটি দিক লেখক এই গ্রন্থে তুলে ধরেছেন

বিরাট এই দেশ ভারতবর্ষ বনু-বিচিত্র এর লোকজন। ভাষায় এদের মধ্যে বিভিন্নতা আচার-ব্যবহার, রীতিনীতি, খাওয়া পরা-_ বিভিন্নতা সব নিয়েও তবুও কাশ্মীর থেকে কন্যা কুমারিকা, আর গুজরাট থেকে মনিপুর পর্যন্ত এই বিরাট বিচিত্র দেশের অগণিত লোকজনের মধ্যে এক বিষয়ে একতা লক্ষ্য করা যায়। আবহমান- কাল থেকে দেশের সর্বত্রই দ্বর্গের দেবতায় আর মর্ত্ের মানুষে একসঙ্গে মিলে “নান! ধরণের অপূর্ব লীলাবিলাস ক'রে এসেছেন ; এখনও সমানে ক'রে চলেছেন ভারতের মানুষ দেবতাকে পরম আত্মীয়, আপনজন বলেই মনে করে আর, স্বর্গের দেবতাদেরও এই দেশের মানুষের সঙ্গে মিশতে কত না আনন্দ! তারা স্বর্গ থেকে নেমে আসেন এই ধুলিধুসর মর্ত্যে। তাদের কেউ হুন পিতা, কেউ মাতা, কেউ পুত্র, কেউ কন্তা, কেউ বা! ভ্রাতা ভগিনী সখা ব৷ সী শুধু কি তাই? ভারত ভূমিতে তার! ডারতবাসীর দাসী এমন কি সত্রীরপেও লীলাবিলাস করেছেন বড় মধুর এইসব লীল! কাহিনী !

এস্সব কাহিন্বী কারও কাছে হয়ত হাক্তকর মনে হ'তে পারে। কারও কাছে জনৈতিহাপিক। কারও কাছে বা অবৈজ্ঞানিক।

[৬]

তাহোক। দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ এ-দব কাহিনী সত্য রলেই মনে করে। তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, "মা" এসে রামপ্রসাদের ঘরের বেড়ার বাঁধন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ; শাখারির কাছ থেকে শাখ৷ চেয়ে নিয়ে হাতে পরেছিলেন; সুদূর বৃন্দাবন থেকে উৎকলে এসে প্রস্তর-বিগ্রহ বিবাদে সাক্ষ্য দিয়ে সে বিবাদ মিটিয়ে দিয়েছিলেন

আরও এক কথা এইসব মধুর কাহিনী অবলম্বন ক'রে দেশের এক এক স্থানে "এক একটা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ কিছু গড়ে উঠেছে। কোথাও বা মন্দির নিমিত হয়েছে কোথাও বছরে বছরে মেল! অনুচিত হয়। এই সব ঘটনাকে কেন্দ্র ক'রে গীত গোবিন্দ, কৃষ্ণ- কর্ণামৃত জাতীয় কত অমূল্য গ্রস্থই না লেখ! হোলো! আবহুমানকাল থেকে অগণিত লোক এইসব মন্দিরেঃ মেলায় এসেছেন, এখনও আসছেন; পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে এই-সব বই পড়ছেন এর মধ্যে বিশ্বাসের অণুমাত্র শিথিলত! নেই।

এ-সব শুধু সত্যই নয়, অমূল্য সম্পদ। এইসব না জানলে দেশকে খাটিভাবে চেনা-ই সম্ভব নয়। দেশের সংস্কৃতির ইতিহাসে এ-সবের মূল্য তাই অপরিসীম, অপরিমেয়। কোনও ইতিহাস, কোনও জাতি এইসব সম্পদকে উপেক্ষা করতে পারে না

দেবতায় আর মানুষে গড়া এই জাতীয় কত কাহিনী ভারতের এখানে সেখানে ছড়িয়ে আছে! খুঁজলে ভারতের সকল জায়গা থেকেই অসংখ্য এই জাতীয় লীলা-কাহিনী আহরণ করা বাবে

লেখক শ্রীযুক্ত চট্টোপাধ্যায় এই সব লীলা-কাহিনী পরম নিষ্ঠার সঙ্গে মাহরণ করে চলেছেন বহুকাল যাবত

লেখকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরলোকগত অধ্যাপক নির্লকুমার বন্ধু শ্ীযুক্ত চট্রোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে বহুদিন ধ'রে উৎসাহিত করেছেন; নানাভাবে সাহায্য করেছেন

[৭] অধ্যাপক বস্থু এইসব কাহিনীগুলি গ্রস্থাকারে প্রকাশ করতে লেখককে অনুরোধ করেন। আর, এই বই প্রকাশিত হ'লে নাম রাখতে বলেন "শাশ্বত ভারত'। তার মতে এই-ই হোলো ভারতের শাশ্বত বা চিরন্তন রূপ

আচার্ধ ত্রিপুরাশস্কর সেনশান্ত্রী এই বই-এর পাঙুলিপি প'ড়ে প্রথম খণ্ডের ভূমিকায় লিখেছেন, 'আমরা একথা নিঃসংশয়ে বলতে পারি, লেখক ভক্তের সঙ্গে ভগবানের লীলা-বিলাস বর্ণনার বধার্থ অধিকারী তার রচনা-নৈপুণ্যের গুণে প্রত্যেকটি কাহিনীই আবাল- বৃদ্ধ-বনিতার কাছে চিত্তাকর্ষক হ'য়ে উঠেছে।'

আমরাও এ-বিষয় আচার্ধ সেনশাস্ত্রীর সঙ্গে এক মত। আচার্য সেনশান্ত্রীর মতো! আমরাও মনে করি, "আজকের এই বিপর্যয়, প্রমত্ততা, বিভ্রান্তি স্বধর্মভ্রষ্টতার যুগে' এই গ্রন্থের একান্ত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে

আমবা তাই আনন্দের সঙ্গে এই গ্রস্থ প্রকাশনার দায়িত্ব নিয়েছি "সঙ্কল্প করেছি, খণ্ডে খণ্ডে বইখানি প্রকাশ করবো

আনন্দের কথ! এই, বইখানির প্রথম খণ্ড বের হবার পর বন্ুগুণীজন অযাচিতভাবে এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন পত্র পত্রিকাতেও এর খুবই সুখ্যাতি বেরিয়েছে

এদেশের অধিকাংশ লোকই অশিক্ষিত। শিক্ষিত বলতে যা বলা হয় তার মধ্যেও বিরাট অংশ অতি সামান্য লেখাপড়া জানে। উচ্চশিক্ষিতের সংখ্যা এদেশে একেবারেই নগম্য অথচ অন্প-শিক্ষিত, নিতান্ত সাধারণ লোকজনের উপযোগী বই এই দেশে কয়খানা আছে --কৃত্তিবাসী রামায়ণ, কাশীদাসী মহাভারত প্রভতি মু্টিমেয় কয়েকখান! ছাড়া? প্রায় সব বই-ই তো! সংখ্যায় নিতান্ত অল্প-- একেবারেই নগন্-স্যক উচ্চ শিক্ষিতদেরই উপযোগী করে লেখা

[৮]

লেখক শ্রীযুক্ত চট্টোপাধ্যায় কথকতার ভঙ্গীতে সহজ সরল ভাষায় জনসাধারণের একান্ত উপযোগী ক'রে শাশ্বত ভারত" বইখানি লিখেছেন পড়লে মনে হবে যেন সাধারণ স্ত্রীপুরুষ দর্শকদের সামনে গলায় মালা প'রে হেলে ছুলে কথক ঠাকুর কথকথা৷ শোনাচ্ছেন। ঠিক কথকতার মতোই এই বই-এর মাঝে মাঝে প্রামাণিক গ্রন্থ বা লোকগাথা থেকে প্রাসঙ্গিক সহজ উদ্ধতি রয়েছে কোথাও বা রয়েছে স্বন্দর সুন্দর গান। বইখানি ' পড়বার সময় ব! শোনবার সময় প্রতি ঘটনাই চোখের সামনে স্পষ্টভাবে ভেসে ওঠে এইটি-ই বইখাঁনির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য যুগান্তর লিখেছেন, 'তাই ইচ্ছে হয়, এক নিংশ্বাসেই বইখানি শেষ ক'রে ফেলি?

পরিশেষে নিবেদন, এটি লেখকেরও নিবেদন, এই বই-এ কোনও ত্রুটি ব! ভ্রম-প্রমাদ লক্ষ্য করলে, আমাদের জানালে তা সংশোধন করতে দ্বিধা আসবে না। তার জন্তে আমর! উভয়েই তার কাছে

কৃতজ্ঞ থাকবে ইতি-_ প্রকাশক

দ্মেহাস্পদ শ্রামান মাণিক চট্টোপাধ্যায় শ্রীমতী মায়া চট্োপাব্যায় কল্যালীচক্সক্ু

সুচীপত্র বিষয়

মদনগোপাল শ্রীঅ্বৈত আচার্য মদনগোপাল শ্রীনাতন গোস্বামী তারা মা বামাক্ষ্যাপ।

গোত্বামী শ্যামানন্দ

সাধক কমলাকাস্ত

মহাপ্রভু গ্রীচৈতন্য,

বিঠঠল নারায়ণ জনৈক যুবক :."

ঠাকুর সর্বানন্দ

দেবী রাজবল্লভী কৃষ্দাস বাবাজী শ্রীরামচজ্দ্র তুলসীদাস

১৪) 88 ৮৪ ১৩৬

১২৯ ১৩৭ ১৬১ ১৭০ ১৮৩

শাশ্বত ভারত (২য় খণ্ড) লিখতে নিম্নলিখিত অমূল্য গ্রন্থগুলির সাহায্য নিয়েছি। এইসব গ্রন্থের লেখকদের আমি প্রণাম জানাই ্‌

প্রীচৈতম্য চরিতামৃত

শ্রীভক্রমাল গ্রন্থ

প্রীঅমিয় নিমাই চরিত-_মহাত্ম। শিশিরকুমার ঘোষ

অখণ্ড অমিয় শ্রীগোরাঙ্গ-_অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

সপ্ত গোস্বামী-_-সতীশচন্দ্র মিত্র

ভারতের সাধক- শঙ্করনাথ রায়

মধ্যযুগীয় গৌড়ীয় সাহিত্যের ভৌগোলিক এঁতিহাসিক অভিধান _ হরিদাস দাস

শাক্তপদাবলী শক্তিসাধনা-_ জাহবীকুমার চক্রবর্তী

বামাক্ষ্যাপা- যোগীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়

তারাপীঠ ভৈরব স্বশীলকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

সাধক কমলাকান্ত__বলাইদাস ভক্তিবিনোদ সাহিত্যরত্ব

শরীশ্রীসপ্ভাব তরঙ্গিণী-__তুলুয়া বাবা

সম্ভবামি যুগে যুগে-_ত্রিপুরাশস্কর সেনশাস্ত্ী

সর্বানন্দ তরঙ্গিণী শিবনাথ ভটাচার্য

রামচরিত মানস - সতীশচন্দ্র দাসগুধ কর্তৃক বাঁঙল| অন্রবাদ

রামচরিত মানস-_-গীতা প্রেস গোরক্ষপুর )

বিনয় পত্রিকা- »

দোহা ( তুলসীদাস ) »

হুগলীর ইতিহাস -হুধীরকুমার মিত্র

হরেননাম হরে্নাম হরেন্নাীমৈব কেবলম্‌। কলৌ নান্ত্যেব নান্তেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা || নাম করো নাম করো নাম করো সার কলিকালে নাম বিনা গতি নাহি আর ।।

নাম করলে, কৃষ্ণ নাম করলে কি হয়? কেহ বলে নাম হৈতে হয় পাপক্ষয় কেহ বলে নাম হৈতে জীবের মোক্ষ হয় হরিদাস কহে নামের এই ছুই ফল নয়। নামের ফলে কৃষ্ণপদে মন উপজয় ॥।

পাপক্ষয় হবে, ভালে! কথা মোক্ষলাভ? প্রয়োজন বোধ করিনে। সে যেমনই হোক বা না হোক, তাঁর পদে মতি হোক--এই একমাত্র কামন] . কর্ষের বিপাকে যেমনই গতি হোক না কেন, তার জন্তে ভাবিনে। একমাত্র মিনতি এই কিএ মানগুস পন্থ পাখিয়ে জনমিয়ে অথবা কীট পতঙ্গ করম বিপাক গতাগত পুনগুন মতি রহ তুয়৷ পরসঙ

প্রতু, তোমার প্রসঙ্গে, তোমার কথায়, তোমার নামে ষেন সর্ধদীই মতি থাকে

বাস্থদেব-কথাপ্রশ্নঃ পুরুষান্‌ ত্রীন্‌ পুনাতি হি। বক্তার প্রচ্ছকং-শ্রোত ন্‌ তৎপাদসলিলং যথা * শ্রীভগবানের পাদসলিল যেমন ত্রিভুবনকে পবিত্র করে, তেমনি ভগবান বাস্থুদেবের কথা-প্রসঙ্গও তিন পুরুষকে পবিত্র করে। এই তিন পুরুষ হোলো--যিনি সে বিষয়ে বলেন, যিনি সে সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন আর ধারা শদ্ধাভরে সে বিষয় শ্রবণ করেন।

ভগবানের পাদসলিল স্বর্গে মন্দাকিনী, মত্যে ভাগীরধী পাতালে ভোগবতী, এই ত্রিধারায় প্রবাহিত।

ধনং জনং সুন্দরীং

কবিতাং বা! জগদীশ কাময়ে।

মম জন্মনি জন্মনীশ্বরে

ভবত! ভক্তিরহৈতুকী ত্বয়ি ॥- _শ্রীচৈতম্য

হে জগদীস্বর আমি ধন চাইনে, জন চাইনে, সুন্দরী নারী বা

কাব্য-প্রতিভা চাইনে (অথবা, সুন্দরী অথবা মনোহারিণী কবিতা চাইনে )। আমার জন্মে জন্মে তোমার প্রতি যেন অহৈতুকী ভক্তি থাকে।

ঘকতরগাপাল আশরীঅদ্রেত আনাম

প্রভু শ্রীঅদ্বৈত আচার্য গৌড়ীয় বৈষ্ণব পরিমগুলে মহাপ্রভু গ্রীচৈন্ক প্রভু শ্রীনিত্যানন্দের পরেই এ'র স্থান এই ছুইজন ছাড়া, প্রভূ শ্রীঅদ্বৈত আচার্যই সবচেয়ে সম্মানিত মহাজন, সবচেয়ে পৃজনীয় বরণীয় বৈষ্ণব ্‌ জয় শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ শ্রীঅছৈত সীতা জয় শ্রীগুর বৈষ্ণব আর ভাগবত গীত! শ্রীসীতা দেবী হলেন অদ্বৈত-ঘরণী।

প্রথম জীবনে শ্রীঅদৈতের নাম ছিল কমলাক্ষ--কমলাক্ষ মিশ্র

এ'র পিতার নাম কুবের তর্কপধশনন | মায়ের নাম লাভা দেবী

আদি বাড়ী এদের শ্রীহট্রে লাউড় গ্রামে। বর্তমানে স্থনামগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত নবগ্রামে।

.কুবের তর্কপধ্ধানন ছিলেন একজন শান্ত্রবিদি পণ্ডিত। পরম

ধর্মপরায়ণ।

কমলাক্ষের জন্ম শ্রীহটে। জগ্ম হয় আম্মুমানিক ১৪৩৪ শ্রীষ্টাৰের মাঘী শুরু। সপ্তমী তিথিতে

শিশকাল থেকেই কমলাক্ষের জীবনে দেখা যায় অপূর্ব ভক্তি- , পরায়ণতা1 | পুজ। অর্চনা নিয়েই কমলাক্ষের দিন কাটে ছেলে বয়স থেকেই পুজোয় বসলে কমলাক্ষের চোখ দিয়ে নির্গত হ'তে থাকে ধারায় ধারায় অশ্রু

কমলাক্ষ বড় মেধাবী কেউ কেউ বলেন, কমলাক্ষ শ্রুঃতিধর। একবার যা শোনে ভাই-ই মনে থাকে সচরাচর এমনটি দেখা যায় না। বিস্তাচ্চায়ও কমলাক্ষের প্রগাট় অন্থুরাগ |

শাশ্বত ভারত ( ২য় )---১

শাশ্বত ভারত

বয়স যখন মাত্র বারো, তখন পিতা কুবের তর্কপঞ্চানন কমলাক্ষকে বিষ্তার্জনের জন্তে পাঠিয়ে দিলেন শ্াস্তিপুরে কয়েক বছরের মধ্যেই কমলাক্ষ বেদ বেদাস্ত স্মৃতি যড় দর্শন আয়ত্ত ক'রে ফেললেন | সবাই এ'র পাণ্ডিত্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলো

এই সময়ে পিতামাতা চলে এলেন শ্রীহট্র থেকে পুণ্য ভাগীররথী- তীরে শাস্তিপুরে নবদ্ধীপে বাস করতে লাগলেন কমলাক্ষ পিতা- মাতার কাছেই রইলেন।

পিতামাতার মৃত্যুর পর কমলাক্ষ স্থির করলেন, গয়াধামে গিয়ে উভয়ের উদ্দেশে পিগুদান ক'রে আসবেন |

গয়ার কাজ শেষ ক'রে কমলাক্ষ বেরিয়ে পড়লেন দক্ষিণ ভারতের প্রসিদ্ধ তীর্ঘগুলি পর্যটন করতে এই সঙ্গে বৃুন্দাবনও ঘুরে আসবেন মনস্থ করলেন

এই সময়ে তিনি একদিন মধ্বাচার্য সম্প্রদায়ের এক ধর্মস্ভায় নারদীয় সৃত্রের অপূর্ব ব্যাখ্যা শুনে ভাবাবেশে মৃদ্ধিত হয়ে পড়েন। সাত্বিক বিকার দেখ! দিতে লাগলো! সারা দেহে অষ্ট সাত্বিক বিকার।

অষ্ট সাত্বিক বিকার? সে আবার কেমনতরো ?

কৃষভাবে চিত ভাবিত হলেই চিত্তকে বলে সব। এই সত্ব থেকে, যে'মধুর ভাব সঞ্চাত হয়, তাই-ই সাত্বিক ভাব। সাত্বিক ভাবে আট রকম অবস্থা ঘটে। স্তস্ত, ম্বেদঃ রোমাঞ্চ, স্বরভেদ, কম্প, বৈবর্ণ্য, অশ্রু আর মৃছা। প্রেমার স্বভাবে ভক্ত হাসে কাদে গায়। উদ্যত হইয়! নাচে-_-ইতি উতি ধায় ।॥

মদনগোপাল ভ্অধৈত আচার্য

স্বেদ কম্প রোমাঞ্চাশ্র গদগদ বৈবা উন্মাদ বিষাদ ধৈর্য গর্ব হর্য দৈচ্য এই ভাবে প্রেম! ভক্তগণেরে নাচায়। ' কৃষ্ণের আনন্দামৃত সাগরে ভাসায় এই সাত্বিক ভাবের প্রকাশ তখন কমলাক্ষে

সমাগত সাধুজনের! বলাবলি করতে লাগলেন, কে এই মহাজন ? সাত্বিক বিকারে আবিষ্ট একে কী স্ুন্দরই না দেখাচ্ছে!

সত্যই কমলাক্ষের সর্বদেহ তখন পুলক-পরিপূর। কখনো কাপছে থরথর ক'রে কখনো বা শরীর থেকে স্বেদ নির্গত হচ্ছে। দেহ বিবর্ণ হ'য়ে যাচ্ছে কখনো কখনও বা কথ। কইছেন গদগদ অবস্থায়। কখনও বা ইন্ডদ্রিয়ের ক্রিয়াকর্ম বন্ধ হ'য়ে গেলো বুঝি.। কিন্ত সব মিলে--সব মিলে আনন্দ-চমতকার।

দক্ষিণ ভারতের অদ্বিতীয় প্রেমিক সন্ন্যাসী হলেন শ্রীপাদ মাধবেন্দ্ পুরী। তাই কেন? সারা ভারতেরই তিনি একজন সর্বজন পৃজনীয় মহাত্বা। মাধবেন্দ্র পুরী ছিলেন সেখানে কমলাক্ষের এই রকম' ভাবাবেশ দেখে তিনি পুলকিত হলেন। বুঝতে পারলেন

শুদ্ধ প্রেমাসব ইহে। করিয়াছে পান। অন্তনিত্যানন্দ ইহার নাহি বাহা জ্ঞীন ইহার শরীরে মহাপ্রভুর লক্ষণ জগতে তারিতে বুঝে" হেলা প্রকটন সমাগত মহাত্বারা উচ্চৈত্বরে হরিধ্বনি দিতে লাগলেন হরিবোল, হরিবোল। হরিবোল, হরিবোল ।*.-** হরি-নাম শুনে সম্থিং ফিরে এলে। কমলাক্ষের। কমলাক্ষ চোখ মেলে তাকালেন দেখলেন, তার শিয়রে দাড়িয়ে রয়েছেন পরম ভাগবত শ্শ্রীপাদ মাধবেশ্্র পুরী

$ শাখখত ভারত

কমলাক্ষ পূর্বেই শুনেছেন মাধবেশ্দ্রের নাম। জানেন তার কথা। মাধব পুরীর প্রেম অকথ্য কথন। মেঘ-দরশনে মৃচ্ছ? হয় সেই ক্ষণ কৃষ্ণনাম শুনিলেই করেন হঙ্কার। দ্ডেকে সহস্র হয় কৃষ্ণের বিকার নেহভর৷ দৃষ্টিতে মাধবেন্দ্র কমলাক্ষকে অভিষিক্ত করলেন মাধবেন্দ্র পুরীকে দর্শন ক'রে কমলাক্ষ কৃতার্থ হলেন। লুটিয়ে পড়লেন তার চরণে। প্রভূ, বন্ছদিন হ'তৈ একান্ত বাসনা, কবে আপনার দর্শন পাবো? কবে আপনার কৃপালাভে জীবন ধন করবো? আজ আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন প্রত, আমায় কৃপা করুন। আমি আপনার শ্রীচরণে শরণ নিলাম। মাধবেন্দ্র কমলাক্ষকে আলিঙ্গন করলেন কৃষ্ণপ্রেম লাভ করো, বৎস তোমার মনের বাসন! পূর্ণ হোক।

দিন যায়।

মাধবেন্দ্র কমলাক্ষের আকুল প্রার্থনায় তাকে নিজের কাছে রাখলেন কিছুকাল বৈষ্ণব ধর্মশান্ত্রের বছ গৃঢ কথ! তাকে শোনালেন বহু গৃঢ় তত তাকে শেখালেন। সাধ্য সাধনতত্ব সুন্দর করে তাকে বোঝালেন।

মাধবেন্দ্রের কপাবলেই কমলাক্ষ হয়ে পড়লেন কালে সর্ববিভ্ভায় পারঙম। হলেন মহত্মম বৈষবদের একজন

একদিন কমলাক্ষ একান্তে শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রকে নিবেদন করলেন, প্রভূ, এই ঘোর কলিকালে জীবের হুর্গাতি দেখে বড়ই ব্যথ। পাই। বেদনায় অভিভূত হয়ে পড়ি ভগবানের শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ আজ সেই মানুষ অধ:পতিত। তার সামনে কোনও আদর্শ নেই। ধর্ম থেকে সে বিচ্যুত। তুবন*মঙ্গল হরিনাম তার যুখে আজ আর

মদনগোপাল প্রীঅতৈত আচার্য

উচ্চারিত হয় না। কলুষ-নাশন শ্রীকষের নাম কেউ করে না। আমায় উপদেশ দিন, প্রত, কিসে মানুষের পরিত্রাণ হবে? আমার ভবিষ্তুৎ কর্তব্যই বা কি?

বম কমলাক্ষ, স্থুবিপুল এই পাপরাশি যিনি উদ্মালন করতে সক্ষম, সেই পরম প্রভুর আবির্ভাব না ঘটলে তো তা সম্ভব হবে না। তুমি প্রকৃত ভক্ত। জীবের কল্যাণ কামন! ক'রে সেই করুণাময় প্রভূকে বারংবার ডাকো। জানাও আকুল আহ্বান। জাগ্রত করে তোলো! তাকে তাকে ধরাধামে অবতীর্ণ করাও। এভার তুমিই নাও, বংস।

মাধকেন্দ্র পুরীর উপদেশ কমলাক্ষ অন্তরের সঙ্গে গ্রহণ করলেন।

তাই হবে, প্রভূ। আমি নিশ্চিত জানি, আপনার আশীর্বাদ থেকে কখনও বঞ্চিত হবো না। আজ থেকে সেই পরম প্রভুকে আবাহন করা, তাকে ধরাধামে অবতীর্ণ করানোই হবে আমার জীবনের ব্রত।

তোমার সম্কল্প সার্থক হোক, বৎস।

কয়েক দিনের মধ্যে কমলাক্ষ আবার বেরিয়ে পড়লেন তীর্থ পর্যটনে পশ্চিম ভারতের তীর্থগুলি দর্শন ক'রে তিনি এলেন

বৃন্দাবনে

শ্রীবন্দাবন

বন্দাবন কৃষ্ণের শ্রেষ্ঠ বাসস্থান বৃন্দাবন পুরী মাধুপুরী বরা। বৃন্দাবনই শ্রেষ্ঠ পুরী

ব্রেলোক্যে পৃথিবী ধন্য! যত্র বৃন্দাবন পুরী

স্বয়ং ভ্রীকৃঞ বলেন, হে অঙজুনি, ত্রিলোকে পৃথিবী ধন্তা যেহেতু তাতে বৃন্দাবন আছে।

কমলাক্ষ বৃন্দাবনে এলেন।

শাখখত ভারত

রাধ। কৃষ্ণের এক একটি লীলাস্থলী দেখেন আর ভাবে উদ্বেল হয়ে পড়েন কমলাক্ষ। কখনও ভূমে গড়াগড়ি দেন। কখনও বা অশ্রু বন্তায় ব্রজের রজ সিক্ত ক'রে তোলেন।

দিন কেটে যেতে লাগলে! এমনি ভাবে।

একদিন কমলাক্ষ এলেন গিরি গোবর্ধনে এখানে এসে তিনি আনন্দে বিভোর হ'য়ে পড়লেন

রাত্রি হয়েছে। চারিদিক অন্ধকার। পল্লী নিস্তব্ধ, নির্জন কমলাক্ষ এক বটগাছ* তলায় শুয়ে রয়েছেন। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ঘুমের ঘোরেই তিনি এক ন্বপ্প দেখলেন মধুর স্বপ্ন ।' দশ দিক উজ্জল ক'রে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ তার সম্মুখে আবির্ভূত হলেন। নয়নাভিরাম তার বূপ। ত্রিলোকমোহন মনোহর বংশীবদন বনমালী ত্রিভঙ্গ ভজিম। ঠামে, চুড়ার টালনি বামে, আর তাহে অলক আবলী ॥৷ বরণ চিকণ কালা, তাহে শোভে বনমালা, পীতাম্বর পরিধান করি। কিবা সে মুরতিখানি, অপরূপ লাবনি, কালে! নহে জগমনোহারী মরি-মরি ! মরি-মরি | সসিগ্ধ মাধুর্যের অস্বত-শ্রোতে দশদিক ভেসে গেলো! দিব্যভাবে কমলাক্ষের হৃদয় ভ'রে উঠলো কমলাক্ষ বিহ্বল হ'য়ে পড়লেন। প্রণাম করতে পারলেন না চোখের পলক পড়লে৷ না। তাকিয়ে রইলেন এক-দৃষ্টে। আনন্দের আকুলতায় হুচোখ দিয়ে জল গড়াতে লাগলো

আদিত্য তীর্থে এটি রয়েছে।

মদনগোপাল প্রঅধৈত আচার্য

বিশ্বের সকল সুধা কণ্ঠে এনে সুশ্মিতবদন ব্রজেশ্বর তখন বললেন,

কমলাক্ষ, তোমার সন্কল্পের কথা জানি। তুমি মাধবেজ্দ্রে নির্দেশিত পথেই সাধনা ক'রে চলো দ্বিধা এনে! ন1। বিশ্বাস হারিও না। শঙ্কার কোনও কারণ নেই। অচিরেই তোমার সন্বল্প সিদ্ধ হবেঞ। প্রেমভক্তির বন্যায় আবার ধরণী প্লাবিত হবে। ভুবন- মঙ্গলের মধুর নাম আবার ঘরে ঘরে উচ্চারিত হবে। শুভলগ্নের আর বিলম্ব নেই জেনো, তুমি আমার প্রিয়, একান্ত প্রিয়

আর এক কথা, কমলাক্ষ।

দ্বাদশ-আদিত্য তীর্থে যমুনাতীরে আমার এক বিগ্রহ রয়েছে। বিগ্রহের নাম মদনমোহন

দ্বাপরে শ্রীমতী কুজা আমার এই মৃত্তির সেবা করেছিলো বিগ্রহটি যমুনাতটে মাটির নীচে লুকানো রয়েছে তুমি এই নিগ্রহের উদ্ধার করো এব সেবার ব্যবস্থা কবো।

কমলাক্ষের আব নিদ্র। হোলো না। সারারাত নিমজ্জিত রইলেন আনন্দরস-লমুদ্রে

শ্রীকৃষ্ণ দেখ! দিয়েছেন

জীবনে এই প্রথম শ্রীকৃষ্ণের দর্শন পেলেন কমলাক্ষ

হোক্‌ না সে স্বপ্নযোগে দেখা! তবুও সে যে দুর্লভ দর্শন !

বিশ্ববিমোহন সেই রূপ কমলাক্ষের চোখের সামনে অনুক্ষণ ভাসতে লাগলো নিমেষের তরেও অনৃশ্য হোলো না।

কমলাক্ষ প্রাণ ভরে দেখতে লাগলেন দেখতেই লাগলেন

মধুরং মধুরং বপুরম্ বিভো_ মধুরং মধুরং বঙ্গনং মধুরম্‌। মধুগন্ধি মৃহন্মিতমেতদহো! মধুরং মধুরং মধুরং মধুরম্‌

চি শাশ্বত ভারত

কৃষ্ণাঙ্গ লাবগ্যপুর, মধুর হৈতে সুমধুর, তাতে যেই মুখ-নুধাকর

মধুর হৈতে স্থুমধুর, তাহা হৈতে স্থমধুর, তার যেই ন্মিত-জ্যোতম্মাভর

মধুর হৈতে সুমধুর তাহা হৈতে সুমধুর, , তাহা হতে অতি সুমধুর;

আপনার এক কণে, ব্যাপে সব ত্রিভুবনে, দশ দিক ব্যাপে যার পুর

ভোর হোলো

কমলাক্ষের আনন্দ ধরে না। অপার আনন্দে গায়ের সবাইকে জাগিয়ে তুললেন জানালেন সবাইকে গতরাত্রের স্বপ্ন-বৃত্তাস্ত।

তোমরা ভাগ্যবান শ্রীকৃষ্ণের এক বিগ্রহ এখানে আছেন শ্রীমতী কুজ! ঘাপরে যে শ্রীকৃষ্ণ-বিগ্রহের আরাধন। করতেন, সেই বিগ্রহ। তোমরা আজ তার দর্শন পাবে। তিনি মাটির নীচে রয়েছেন। চলো যাই। তাঁকে উদ্ধার ক'রে আনি।

গায়ের লোকেরা পরম আনন্দে ছুটলো৷ দ্বাদশ-আদিত্য তীর্থের দিকে। আ্্ী-পুরুষ-বালক-বৃদ্ধ সবাই চলো চলো।

চলো চলো

বলে ওকে, চলো! চলো বলে একে, চলো চলো

সবারই মুখে আনন্দ, অন্তরে উৎসাহ

আজ ঠাকুর দেখা দেবেন! আজ ঠাকুর দেখা দেবেন !

চলে চলো।

খনন শুরু হোলো

অল্প সময়ের মধ্যেই স্বপ্নবর্ণিত স্থানে প্রকটিত হলেন তুবন-মনোহর শ্রীকষ্ণবিগ্রহ

আনন্দ ধরে ন৷ গ্রামবাসীদের আনন্দের সীমা! নেই কমলাক্ষের ! উৎফুল্ল হ'য়ে সবাই জয়ধ্বনি দিয়ে উঠলেন

মনগোপাল শ্রীঅতবৈত আচার্য

জয় মদনমোহন | জয় মদনমোহন |". আনন্দে কেউ নাচতে লাগলেন কেউ ভূমিতে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন। কেউ বাঠাকুরের অপার করুণা দেখে ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেললেন অনেকেই ঠাকুরকে স্তব করতে লাগলেন। কষ্ণায় বাস্থুদেবায় দেবকীনন্দনায় চ। নন্দগোপকুমারায় গোবিন্দায় নমোনমঃ

শুভদিনে কমলাক্ষ অসংখ্য লোক-সমাগমের মধ্যে মদনমোহনের প্রতিষ্ঠা করলেন। একজন সদাচারী ব্রাহ্গণ নিয়ে এলেন খুঁজে তার উপর শ্রীবিগ্রহের সেবার ভার অর্পণ করলেন

কমলাক্ষের কাজ শেষ হোলে! তিনি ঠাকুরকে প্রণাম ক'রে চলে এলেন। রইলেন মদনমোহন ক্ষুদ্র এক কুটিরের মধ্যে

ঠাকুরকে তোলা হয়েছে মাটির নীচে থেকে অপুর সুন্দর ঠাকুর | তাই মদনমোহনকে দেখতে দলে দলে লোক আসতে লাগলো! সব সময়েই লোকের ভীড়। সর্বক্ষণেই জয়ধ্বনি

জয় মদনমোহন ! জয় মদনমোহন !******

একদল পাঠানের নজর পড়লো এই দিকে তার! পছন্দ করলে না পাথরের একটা মুতি নিয়ে এত হৈ চৈ! এত লমারোহ !

একদিন তারা এলো মদনমোহন বিগ্রহ নিয়ে ষেতে। বিগ্রহটিকে তারা হয়ত অপবিত্র করবে ধ্বংস করবে।

পাঠানরা এলো৷ | কুটিরে প্রবেশ করলো

কিন্তু আশ্চর্য ! বিগ্রহ নেই! কে যেন ভ্রতবেগে সে বিগ্রহ সরিয়ে ফেলেছে!

নিরাশ হ'য়ে ফিরে গেলে! পাঠানরা। বিগ্রহ ধ্বংস করা গেলো না।

এতক্ষণ পূজারী ওখানে ছিলেন না। ভিনি যমুনায় স্গানতর্পণে রত ছিলেন। পাঠানদের হামলার কথা শুনেই ছুটে এলেন। দেখলেন বেদীতে শ্রীবিগ্রহ নেই!

১৩ শাশ্বত ভারত

কী সর্বনাশ! হায় হায়!

তবে কি পাঠানর! বিগ্রহ নিয়ে গিয়েছে? কিংব। বিগ্রহকে জলে ফেলে দিয়েছে? কিংবা অপবিত্র ক'রে ধ্বংস ক'রে ফেলেছে £

হুঃখে বেদনায় পূজারী কাদতে লাগলেন

নিমেষে সংবাদ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো

কমলাক্ষ ছুটে এলেন ছুই চোখে তার অশ্রুর বন্যা

খুঁজে চলেছেন বিগ্রহ ন্নীন নেই। আহার নেই। খু'ঁজেই চলেছেন কমলাক্ষ

বহুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও বিগ্রহের কোনও সন্ধান পাওয়। গেলো না।

প্রভু, লীলা-সুন্দর, আবার তোমার কোন্‌ লীলা ? এতকাল ছিলে মাটির নীচে লুকিয়ে কৃপা ক'রে আদেশ করলে, আমায় প্রকাশ করো। আমার কী সাধ্য? তুমি নিজেই নিজেকে প্রকটিত করলে! আজ আবার কোথায় গিয়ে লুকোলে ? কেন লুকোলে ? ন1 জানি, আরও কি লীল! দেখাবার সাধ হয়েছে তোমার, লীলাময় !

কমলাক্ষ ধ্যানে বসলেন। |

রাত্রি হোলো গভীর রাত্রি

কমলাক্ষ কিছুই খান নি। রুচি নেই।

সেই বটগাছের নীচেই শুয়ে পড়লেন সারাদিনের ক্লাস্তিতে কিছুক্ষণের মধ্যে কমলাক্ষ পড়লেন ঘুমিয়ে

এমন সময়ে শ্রীকঝণ স্বপ্নে তাকে দেখা দিলেন। কেমধুর কণ্ঠে বললেন,

কমলাক্ষ, কেন ছঃখ করছে৷? এত ভাবছে! কেন? পাঠানরা আমায় ভেঙ্গে ফেলে নি। অপবিভ্রও করে নি। আমি-ই নিজে ছোট্ট একটি বালক সেজে বেদী থেকে লাফিয়ে পড়েছিলাম তারপর চুপি চুপি বাইরে এসে কুটিরের পাশে ফুলবাগানে লুকিয়ে রয়েছি যাও, সেখান থেকে 'আমায় উঠিয়ে নিয়ে এসে

মদনগোপাল শ্রীঙ্গঘৈত আচার্য ১১

হ্যা, আর এক কথা। আজ থেকে আমার এই বিগ্রহের নাম রাখো মদনগোপাল | না, না, মদনমোহন নয়, মদনগোপাল। মদনগোপাল-ই ভালো আজ থেকে সকলের মনে জাগরূক থাক আমার এই গোপাল লীল।।

আনন্দে অধীর হ'য়ে কমলাক্ষ ছুটে গেলেন ফুলবাগানে কতবার তো দেখেছেন জায়গা ! দেখতে পান নি একে কিন্তু কী আশ্চর্য! এখানেই রয়েছেন ঠাকুর! মদনগোপাল !

মদনগোপালকে নিয়ে এলেন বেদীতে

তোমাদের ঠাকুরের নাম আজ থেকে মদনগোপাল। নিজেই নিজের নাম বদলে নিয়েছেন।--জানালেন কমলাক্ষ সবাইকে

জয় মদনগোপাল ! জয় মদনগোপাল |.:-*-.

মদনগোপালের পুজা যথারীতি চলতে লাগলো

আবার একদিন কমলাক্ষ স্বপ্ন দেখলেন

মদনগোপাল তাকে বলছেন,

দেখ কমলাক্ষ, আমার বিগ্রহ যেখানে রয়েছে, সেস্থান স্থুরক্ষিত নয়। পাঠানরা হয়ত শীত্রই আবার আক্রমণ করবে। তুমি এক কাজ করো মথুরা থেকে দামোদর চৌবে নামে একজন পরম ভক্ত শীঘ্রই এখানে আসবে তুমি তার হাতেই আমাকে সমর্পণ কোরো সেখানে আমার কোনে অস্ত্রবিধা হবে না।

হুখিত হোয়ো না, কমলাক্ষ। হোলোই বা এই বিগ্রহ স্থানান্তরিত। আমি অঙ্গীকার করছি, তোমার সঙ্গে আমার সম্বন্ধ অটুট থাকবে চিরকাল

নিকুঞ্জবনে আমার এক প্রাচীন পট রয়েছে। বিশাখা সর্থী এই পট রচনা করিয়েছিল। এই পটখানি তুমি দেশে নিয়ে যেও। সেবা কোরো এই পটের। তাতেই আমি স্বুখী হবে!

পরদিন দামোর্দর চৌবে এসে উপস্থিত হলেন। তিনিও মদনগোপালের প্রত্াযাদেশ পেয়েছেন।

১২ শান্ত ভারত

বুন্দাবনে কমলাক্ষের কাছে যাঁও। তার কাছ থেকে আমায় নিয়ে এসো আমি তোমার ঘরেই থাকবো

চৌবেজী, তুমি ভাগ্যবান। মদনগোপাল তার সেবার জনকে তোমাকেই নির্দিষ্ট করেছেন। এমন ভাগ্য কয়জনের ? পু

কমলাক্ষ দামোদর চৌবেকে মদনগোপাল বিগ্রহ অর্পণ করলেন।

হে লীলানুন্দর, কী সাধ্য আমার যে তোমার লীল! বুঝতে পারি | বুঝি নাই বুঝি, কৃপাময়, এই কৃপাই কোরো, যেন তোমার কৃপা থেকে কখনও বঞ্চিত নাহই। তোমার অপার কপার কথ! কখনও যেন না ভুলি

পটখানি নিয়ে কমলাক্ষ শাস্তিপুরের উদ্দেশ্টে রওনা হলেন।

আসবার পথে কমলাক্ষ মিথিলা হ'য়ে এলেন। মিথিলায় এক বটবৃক্ষমূলে বৃদ্ধ কবি বিষ্ভাপতি বিশ্রাম করছিলেন। অপ্রত্যাশিতভাবে তার সঙ্গে মিলন হোলে। কমলাক্ষের। বিপ্র কহে মোর নাম ছিজ বিদ্ভাপতি। রাজান্ন ভোজনে মোর বিষয়েতে মতি কমলাক্ষ তাকে প্রণাম জানিয়ে বললেন, ভাগ্যে মোর প্রতি কৃষ্ণ দয়! প্রকাশিল। তেই পদকর্তা বিষ্ভাপতির সঙ্গ হইল

কমলাক্ষ এলেন শাস্তিপুরে

কিছুদিনের মধ্যে শ্রীপাদ মাধবেন্দ্র পুরীও এলেন। এলেন কমলাক্ষের গৃহে

মাধবেন্দ্র চলেছেন নীলাচলে মলয় চন্দন সংগ্রহ করতে হুবে। তার গোপাল তাকে বলেছেন, আমার শরীরে বড়ই জ্বালা গরমে কষ্ট পাচ্ছি। নীলাচলে চন্দন মেলে। সেখান থেকে চন্দন নিয়ে এসো আমার সর্বা্গে কর্পুর চন্দন লেপন করো তাতে জাল! কমবে।

মদনগোপাল শ্রীঅঘৈত আচার্য ১৩

বিলম্ব করেন নি। তক্ষুনি রওনা হলেন নীলাচলের উদ্দেশ্ে। যাবার পথে এসেছেন শাস্তিপুরে অপেক্ষা করতে পারবেন ন৷ বেশী দিন। অচিরেই মাধবেজ্দ্র দীক্ষা দিলেন কমলাক্ষকে।

কমলাক্ষ ইতিমধ্যে বৃন্দাবনের সব ঘটনার কথাই বলেছেন তাকে বলেছেন পটের কথা। দেখালেন পটখানি। পটখানি দেখে মাঁধবেন্দ্রের ভাবাবেশ হ'তে লাগলো! প্রকৃতিস্য হ'লে তিনি কমলাক্ষকে উপদেশ দিলেন-_ পুরী কহে বাছ। তুন্ছ' শুদ্ধ প্রেমবান-। শ্রীরাধিকার চিত্রপট করহ নির্নাণ রাধাকৃষণ দর্শনে হয় গোপী ভাবোদয়। অতএব যুগল সেবা সর্বশ্রেষ্ঠ হয়

কমলাক্ষ মাধবেন্দ্রেরে আদেশ অনুষায়ী রাধিকার পট রচনা" করালেন

শুভক্ষণে মাধবেন্দ্র কমলাক্ষের ভবনে রাধামদনগোপালের অভিষেক করলেন। কমলাক্ষ শুরু করলেন রাধাকৃষ্ণের যুগল-ভজন | রাধা কৃষ্ণের এই যুগল উপাসনা_কৃষণ কৃষ্ণশক্তির__ অনতিবিলম্বে শ্রীচৈতন্ সম্প্রদায়ে প্রধান আসন লাভ করলো!

মাধবেন্দ্র কমলাক্ষকে বিবাহ ক'রে সংসারী হ'তে নির্দেশ দিলেন। উপদেশ দিলেন, সংসারে থেকেই কৃষ্ণ নাম প্রচার ক'রে চলো, বৎস।

বিদায় নেবার পূর্বে মাধবেন্দ্র একান্তে কমলাক্ষকে বললেন, বৎস কমলাক্ষ, পরম প্রভূকে আহ্বান ক'রে ধরায় অবতীর্ণ করাবার মুখ্য দায়িত্ব তোমার কথ ভুলো না। আমি তার আবির্ভাবের অপেক্ষায়ই রইলাম

জাগৃহছি ভগবন্! অনাগত দেবতা স্বাগতম্‌!

কমলাক্ষের একজন শিষ্য ছিলেন নাম তার পণ্ডিত শ্যামাদাস ভিনি ছিলেন অধৈতবাদী

১৪ শাখত ভারত

আচার্ষের সঙ্গে তত্ব বিচারে পরাজিত হ'য়েই তিনি কমলাক্ষেয় শিত্ত্ব গ্রহণ করেছিলেন গ্রহণ করেছিলেন ভক্তিসিদ্ধান্ত শ্যামাদাস পণ্ডিতই এই সময়ে কমলাক্ষের নামকরণ করেন --মদ্বৈত আচার্য হরি সহ অভেদ হেতু নাম হৈল অদ্বৈত” অছৈত নাম-ই চালু হোলে।।

অদ্বৈত শাস্তিপুরে বাস করতে লাগলেন। তিনি ছিলেন শাস্তিপুরের বৈষণবকুল শিরোমণি

তখন সমাজে বৈষ্বদের একটুও আদর ছিল না। তারা ছিলেন অবহেলার পাত্র। ছিলেন লাঞ্থিতের মতো। লোকেরা বিষহরি, বাশুলি, মঙ্গলচণ্ডী এই সবের পুজো নিয়েই থাকতো কৃষ্ণ নামে কারও ,আস্থা৷ ছিল না। যারা কৃষ্ণ নাম করতো, তাদের সকলে উপহাস করতে শুধু বিদ্যা বিষয় নিয়েই আড়ম্বর। ভক্তির লেশ নেই। বৈষবরা ম্লান বিমর্ধই থাকেন। চারিদিকেই নিক্ষল! প্রাণহীন বিদ্তা আর জ্ঞানহীন বিষয়ের ঘটা সকল সংসার মত্ত ব্যবহার-রসে। কৃষ্ণপূজা, কৃষ্ণভক্তি কারে নাহি বাসে বাণুলী পৃজয়ে কেহো৷ নান উপহারে মন্ত মাংস দিয়া কেহে। যজ্ঞ পুজ। করে নিরবধি নৃত্যগীত-বাগ্ভ কোলাহল না শুনে কৃষের নাম পরম মঙ্গল তখন শাস্তিপুরের, শুধু শান্তিপুরের কেন, নবদ্বীপের, আসে পাশের সমুদয় অঞ্চলেরই সকল লোক বিষয় ভোগে মত্ত। কেহো পাপে কেছে পুণ্যে করে বিষয় ভোগ ভক্তিগন্ধ নাহি-_যাতে যায় ভবরোগ ভবরোগ বলি কাকে? ভোগের ইচ্ছাই হোলে! ভবরোগ

মদনগোপাল শ্রীজতৈত আচার্য ১৫

ভোগেচ্ছার নাশ হয় কিসে? ভক্তি আসলে ভক্তি আসলে প্রলন্ন হন কৃ কৃষ্ণ বাঁধা পড়েন কেবলমাত্র ভক্তিমানের কাছে। কৃষ্ণ ভক্তেরই বশীভূত। ভক্তের দাস তিনি

অদ্বৈতের গৃহে প্রায়ই বৈষ্বদের সভা বসে। তারা সকলে নিজেদের হীন অবস্থা নিয়ে ছুখ করেন, বিলাপ করেন অদ্বৈত হুস্কার ছেড়ে বলেন, না), আর দেরী নেই। শ্রীহরি আর্তের ত্রাণ-কর্তা। স্র্মঙ্গলাকর তিনি। তিনি আঙসবেন। এসে সকলের মঙ্গল করবেন এর পরেই সকলে প্রার্থনা শুরু করেন। কৃষ্তায় বাস্থুদেবায় হরয়ে পরমাত্মনে | প্রণত র্লেশনাশায় গোবিন্দায় নমোনমঃ হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধো দীনবন্ধে! জগৎপতে গোপেশ গোপিকাকান্ত রাধাকাস্ত নমোহস্ততে হে গোলোকবিহারী হরি, এসো এসো অবতীর্ণ হও। কলিজীবের ছখমোচন করো দূর করে! জগতের যতেক অন্ধকার, যতেক কলুষ। অভিষিক্ত করে৷ ত্রিতাপদঞ্ধ নরনারীর মরুতুল্য শুফ হাদয় ভক্তির সিগ্ধ ধারায়। তুমি এসো। সঙ্গে সঙ্গেই গর্জন শুরু করেন। তুমি এসো। তোমাকে আসতেই হবে। হে ক্ষীরোদসাগরশায়ী, নিদ্রা থেকে তোমাকে জাগতে হবে। শুধু জাগা নয়। এই ধুলি-মলিন ধরায় তোমাকে অবতীর্ণ হতেই হবে। আমার অন্তরের এই আকুল প্রীর্ঘনাকে উপেক্ষা করতে পারো, হেন সাধ্য তোমার নেই। নেই। তুমি এসো তোমাকে আসতেই হবে। অদ্বৈতের হুঙ্কারেই শ্রীচৈতন্তের আবির্ভাব। শুধু কি হুঙ্কার? গর্জন ? হ্ৃস্কার গর্জন আর প্রার্থনা একই সঙ্গে গর্জন আর ভজন অদ্বৈত গর্জন করেন আর ভঙ্জন করেন। ভজন করেন, তারি মাঝে মাঝে গর্জন করেন। একই সঙ্গে করুণ আকুতি আর “নিংহের গর্জন? |

শান্ত ভারত

হুঙ্কার করয়ে কৃষঝ্-জাবেশের তেজে

সে ধ্বনি ব্রহ্মাও ভেদি বৈকুষ্ঠেতে বাজে সে প্রেমের হুঙ্কার শুনিঞা। কৃষ্ণনাথ ভক্তিবশে আপনেই হইল সাক্ষাত অতএব অদ্বৈত বৈষ্ব-অগ্রগণ্য

নিখিল ব্রহ্গাণ্ড যার ভক্তিযোগ ধন্য

এছাড়া, অদ্বৈত প্রতিদিন কৃষণকে তুলসী আর গঙ্গাজলেও আহ্বান

করেন। এক গণ্ুষ গঙ্জাজল আর একপত্র তুলসী

তুলসী-মঞ্জরী সহিত গঙ্গাজলে নিরবধি সেবে কৃষ্ণ মহা-কুতৃহলে গঙ্গাজল তুলমী-মঞ্জরী অনুক্ষণ। কৃষ্ণ পাদপন্প ভাৰি করেন সমর্পণ

তুলমীদল মাত্রেণ, জলন্ত চুলুকেন বা। বিক্রীণীতে স্বমাত্মানং ভক্তেভ্যো ভক্তবৎসলঃ কৃষ্ণকে তুলসীজল দেয় যেইজন

তার খণ শোধিতে কৃষ্ণ করেন চিস্তন-__

'জল তুলসীর সম কিছু নাহি অন্য ধন?।

তারে আত্ম! বেচি করে খণের শোধন।

যিনি প্রতিদিন কৃষকে গঙ্জাজল আর তুলসী দেন, কৃষ্ণ তার খণ

শোধ করতে পারেন না। হেন সাধ্য তার নেই। তাই কৃষ্ণ বাধ! পড়েন তার কাছে। ন্বতন্ত্র হয়েও তাই কৃষ্ণ ভক্তাধীন। তাইতে। “অদ্বৈতৈর কারণে চেতগ্য অবতার?

মাধবেন্দ্রের আশীবাদ-ধন্ত অদ্বৈতের মনের জোরও কি কম ছিল?

তার স্থির বিশ্বাস ছিল, তিনি শ্রীকৃষ্কে অবতীর্ণ করাবেন-ই।

শুন শ্রীনিবাস গঙ্গাদাস শুক্লান্বর। করাইব কৃষ্ণ সর্ব নয়ন-গোচর

যদনগোপাল শ্ীঅন্বৈত আচার্ধ ১৭

সভা] উদ্ধারিব কৃষ্ণ আপনে আসিয়া বুঝাইব কৃষভকি তোমা সভা লৈয়। যবে নাহি পারে তবে এই দেহ হৈতে। প্রকাশিয়। চারিভুজ চক্র লমু হাতে . পাষস্তী কাটিয়! করিম" ্ন্ধ নাশ। তবে কৃষ্ণ প্রভু মোর, মুঝ্ি' তার দাস কী ছর্দমনীয় মনের বল! কী অসীম তেজ |

মাঝে মাঝে বৈষ্ণব ভক্তগণ নিরাশ হয়ে পড়েন কৈ, এখনও তে। এলেন না! তবে কি তিনি আসবেন না? অদ্বৈত সবাইকে আশ্বাস দেন। স্থির হও। নিশ্চিন্ত থাকো। করাহমু কৃষ্ণ সর্বনয়নগোচর তবে সে অদ্বৈত নাম কৃষ্ণের কিছ্বর আর দিন কথে গিয়া থাক ভাই সব। এথাই দেখিবা সব কৃষ্ণ অনুভব

নবদ্ধীপেই উদয় হলেন নবন্বীপচন্দ্র। সে ১৪০৭ শকের ( ১৪৮৬ খ্রীষ্টাব্দ) ফাল্তনী-পুণিমার দিন তখন চন্দরগ্রহণ নবদ্ীপের সর্বত্রই হুরিধ্বনি। রমণীকঠ্ে হুলুরব। অন্য শখ বাজলো কাসর ঘণ্টা বাজলে।। স্তবস্ততি ধ্বনিত হ'তে লাগলে।

নদীয়া উদয়গিরি পুর্চন্্র গৌরহরি কৃপা করি হইল উদয়।

পাপ তমো হইল নাশ ত্রিজগতে উল্লাস জগৎ ভরি হরিধবনি হয়

হরি বোল, হরি বোল। হরি বোল, হরি বোল ।--....

শাস্তিপুরেও গঙ্গাতীরে তখন অসংখ্য লোকের ভীড়। হাজারো কণ্ঠে ছুলুধ্বনি। হাজারো কষ্টে হরি বোল, হরি বোল ।".....

অদ্বৈত প্রভু প্রতিদিনকার মতো সেদিনও ছক্কার করছিলেন এসো, এসে |

শাশ্বত ভারত ( ২য় )--২

১৮ শান্ত ভারত

গ্রীহরিদাস রয়েছেন নাড়ার (শ্রীঅদৈতের ) পাশে

হঠাৎ অদৈতের কী উল্লাস! কী নৃত্য! অকম্মাৎ উঠে নাড়া করিয়া হুঙ্কার হরিদাস সচকিত দেখি ভঙ্গী তার আনিঙ্গু' আনিলু' গোরা আনিলু' নর্দীয়।। ইহা! বলি নৃত্য করে আনন্দে মাতিয়া

নাচো, প্রভূ, নাচো। আজ তুমি ন। নাচলে নাচবে কে? তুমি নাঁচবে না? নাচে।। যার লাগি করিল। বিস্তর ক্রন্দন যার লাগি করিল বিস্তর আরাধন যার লাগি করিলা বিস্তর উপবাস। সে প্রভু তোমার লাগি হইল প্রকাশ

নাচো, প্রভূ, নাচো।

অদ্বৈত প্রভূ বাহান্প বছর বয়সে শ্রীগৌরাঙ্গমুন্দরের জন্ম দেখতে নবদ্বীপে স্থৃতিকা গৃহে এলেন প্রভু, করুণাস্ুন্দর, তুমি এসেছো! ! সত্যই এসেছো! এসেছো দ্বৈতাদ্বৈত অবস্থায়। একই দেহে তোমার অন্তঃকৃষ বহির্গোৌর। তোমার নবনীরদ-শ্যাম তনুর বাইরে যেন একখানি সোনার প্রতিমা! _- একখানি কাঞ্চন-পঞ্চালিক ঝলমল করছে। তোমাকে প্রণাম! কোটি কোটি প্রণাম! নমো ত্রহ্মপ্য-দেবায় গোত্রাঙ্ষণ ছিতায় চ। জগদ্িতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমোনমঃ যিনি ব্রহ্মণ্যদেব, গো'ত্রাহ্মণের মঙ্গলকারী, জগতের কল্যাশন্বরপ, সেই শ্রীকৃষ্ণ, সেই শ্রীগোবিন্দকে প্রণাম করি, বারবার প্রণাম করি।

আদতঅম়োভল আীজলাতত গোঘাতী

দক্ষিণ ভারতের কর্ণাট অঞ্চল থেকে ত্রয়োদশ চতুর্দশ শতকে কিছু সন্ত্াস্ত লোক গৌড়ে এসে বসবাঁস শুরু করেছিলেন এদের মধ্যে একজন হলেন রাপেস্বর দেব। মুকুন্দ এই বংশেরই একজন

মুকুন্দদেবের পুত্র কুমারদেব। কুমারদেবের তিন পুত্র--অমর, সন্তোষ বল্পভ।

অমর সন্তোষ গোড়ের সুলতান হুসেন শাহের অধীনে কাজ করতেন। অমর ছিলেন প্রধান মন্ত্রী, অর্থাৎ দবীর খাস। সন্তোষ ছিলেন কোষাধ্যক্ষ, অর্থাৎ সাকর মল্লিক

উত্তরকালে অমর খ্যাত হলেন সনাতন গোস্বামী নামে সন্তোষ রূপ গোস্বামী নামে! এই ছুই ভাই ছিলেন বৃন্দাবনে বৈষ্ব সমাজের শিরোমণি

বাল্যকালে অমর সন্তোষ নবদ্ীপে গিয়ে বাসুদেব সার্বভৌমের কাছে অধ্যয়ন করেন। বাস্থদেব নীলাচলে চলে গেলে এই হই ভাই অধ্যয়ন করলেন বাস্থদেবের ভাই রত্বাকর বিগ্ভাবাচস্পতির কাছে

এর পরে অমর সন্তোষ সপ্তগ্রামে গিয়ে ফার্সী আরবী শিখলেন

এ'দের বাড়ী ছিল গৌড়ের ঠিক পাশে রামকেলিতে। এঁরা ধনে, প্রতিপত্তিতে আর খ্যাতিতে এই অঞ্চলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন

অমর সন্তোষ ছুই ভাই-ই সুদক্ষ রাজকর্মচারী ছিলেন। এশবর্য প্রতিপত্তির সীম! ছিল না। তা সত্বেও এর! ধর্মময় জীবন যাপন করতেন অস্ত্রে ছিল দৈ্যময়, ত্যাগময় বৈষবীয় জীবন। যৌবন থেকেই বৈষ্বীয় সাধনার জন্তে এরা ছিলেন উন্মুখ রামকেলিতে অবস্থান কালেও এরা

২০ শাশ্বত ভারত

বৃন্দাবন লীল। তথ! করয়ে চিন্তন ন! ধরে ধেরয নেত্রে ধারা অন্ুক্ষণ ধীরে ধীরে এই দুই ভাই-এর জাগতে লাগলো! আতি। ক্ফুরিত হ'তে লাগলো কৃষ্ণপ্রেম। বিষয় আর ভালো লাগে না। রাজলম্মান ভার বোধ হয়। সব সময়েই এক চিন্তা, কি ক'রে এই বিষয়কুপ থেকে উদ্ধার পাবে ? কবে থেকে দীনাতিদশন অকপট বৈষবের জীবন যাপন করতে

পারবে। ?

শ্রীচৈতগ্য তখন নীলাচলে। তার জীবনের বনু কথাই এর জানেন। অলক্ষিতে না দেখেই শ্রীচৈতন্তের প্রতি ছুই ভাই আকৃষ্ট হ'য়ে পড়লেন একদিন অমর একখানি পত্র লিখে নীলাচলে শ্রীচৈতন্তের কাছে লোক পাঠালেন প্রভু, জানি, তুমি জীব উদ্ধারের জন্তেই আবির্ভূত হয়েছো। আমর! বিষয়কীট। শ্লেচ্ছাচারী, পতিত। আমাদের মুক্তির উপায় করো কৃপা ক'রে উদ্ধার করো আমাদের আর, অনুমতি করো, তোমার চরণতলে নিজেদের উৎসর্গ ক'রে এজন্ম সার্থক করি। এই পত্রের জবাব দিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপগ্ডিত বি্যারণ্যের স্ুবিখ্যাত একটি শ্লোকে। পত্রে আর কিছু লেখা ছিল না। পরব্যসনিনী নারী ব্যগ্রাপি গৃহকর্মস্থু। তদেবাস্বাদয়ত্যন্ত ন'বসঙ্গ রসায়নম্‌ পরপুরুষে আসক্ত নারী যেমন গৃহকাজে ব্যস্ত থেকেও প্রেমিকের মৃত্ি সর্বক্ষণ হৃদয়ে ধ'রে রাখে, ঠিক তেমনই বিষয়ে লিপ্ত থেকেও চিত্তকে ডুবিয়ে রাখা যায় তার প্রেমরসে। অমর বুঝলেন, এখনও বিষয় ত্যাগ করবার সময় আসেনি

দিন যায়।

মদনমোহন শ্ীসনাতন গোশ্বামী ২১

একদিন সদলবলে শ্রীচৈতন্ত এলেন রামকেলি যাবেন বুন্দাবনে। অর্ধরাত্রে ছল্পবেশ ধারণ ক'রে অমর সন্তোষ, ছুই ভাই, এলেন প্রভুর আবাসে। এসে জানালেন, তারা মহাপ্রভুর দর্শনপ্রার্থা সঙ্গে সঙ্গেই অনুমতি মিললে! হই ভাই দস্তে তৃণ ধারণ করলেন “গলবন্ত্র হলেন কৃষ্ণপ্রেম- রসে নিমগ্ন হয়ে মহা প্রভুর চরণে লুটিয়ে পড়লেন। কাদতে লাগলেন আমর! নীচ সঙ্গী। নীচ কাজ করি। আমাদের অপরাধ মার্জন! করুন এই প্রার্থনা জানাতেও, প্রভু, আমর! পরম লজ্জিত হচ্ছি। নীচ জাতি নীচ সঙ্গী করি নীচ কাজ তোমার অগ্রেতে প্রভু কহিতে বাসি লাজ মত্তুল্যো নাস্তি পাপাত্ম৷ নাপরাধী কশ্চন। পরিহারেইপি লজ্জা! মে কিং ক্রবে পুরুযোত্বম আমার সমান পাপী, আমার সমান অপরাধী আর কেউ নেই। ওগে! পুরুষোত্তম, কী আর বলবো, আমাকে তুমি ক্ষমা করো, এমন প্রার্থনা করতেও আমার লজ্জা করছে। প্রভু, আমাদের মত অধম, পতিত জগতে আর কেউ নেই। একমাত্র ভরসা, তুমি আছ। আমাদের উদ্ধার ক'রে তোমার বল দেখাও, প্রভূ আম! উদ্ধারিয়া যদি দেখাও নিজবল। পতিত পাবন নাম__তবে সে সফল মোরে দয়া করি কর স্বদয়া সফল। অখিল ব্রন্গাণ্ড দেখুক তোমার দয়াবল প্রভূ, যদি দয়ার যোগ্য পাত্র বলে কেউ থাকে, তবে সে আমরাই। কবে হবে। তোমার নিত্যকিস্কর, শ্রীচরণের দাস? একমাত্র তোমার সেবা ভিন্ন আর সব বাসনা কবে আমাদের বিলুপ্ত হবে, প্রভু ? কাম থামে না।

মহাপ্রভু বললেন, ওঠো, দৈচ্চ সংবরণ করো। তোমাদের এত দৈম্ক আমি সইতে পারছিনে। বুক ফেটে বাচ্ছে। ভগবানে

শাশ্বত ভারত

নিরবচ্ছিন্ন নিবিষ্টউত।ই তোমাদের বিষয়াসক্তি কাটিয়ে দেবে। ভয় নেই। ঘরে যাও। মহাপ্রভু ছুই ভাই-এর নাম রাখলেন সনাতন রূপ। অমরের নাম রাখলেন সনাতন, সম্তোষের রূপ। এখন থেকে এই হই নামেই এঁরা সর্বত্র অভিহিত, অভিনন্দিত হতে লাগলেন: মহাঁ-আশ্বস্ত হলেন ছুই ভাই। গৃহে ফিরলেন। যাবার আগে মহাপ্রভূকে সনাতন একটি গুহা কথ! জানিয়ে দিলেন যার সঙ্গে চলে এই লোক লক্ষ কোটি। বৃন্দাবন যাত্রার এই নহে পরিপাটি মহাপ্রভুর সঙ্গে কাতারে কাতারে লোক বৃন্দাবনে চলছিল। তিনি সনাতনের এই কথায় সায় দিলেন বুন্দাবনে না গিয়ে ফিরে এলেন নীলাচলে

রামকেলিতে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্তের সাথে সাক্ষাতের পর থেকেই সনাতন রূপ আর এক রকমের হ'য়ে গেলেন। রাজকাজে বিষয়-কাজে আর মন বসে না। চাকরীতে আর আদৌ স্পহা নেই।

কিছু দিনের মধোই রূপ কাজে ইস্তফা দিয়ে চলে গেলেন

সনাতন অস্ুখের ছল করলেন।

স্বলতান চিকিৎসার জন্যে বৈদ্ক পাঠালেন

বৈষ্চ ফিরে এসে জানালেন, সনাতন স্ুস্থই আছেন।

স্থলতান সনাতনকে বার বার অন্থুরোধ করলেন রাজকার্য করবার জন্যে তিনি বুঝেছিলেন, সনাতন ছাড়া, রাজকার্ধ চালানো একরকম অসম্ভবই

সনাতন স্থলতানকে বললেন, আমায় অব্যাহতি দিন, জাহাপন1। বিষয়কাজে আর কিছুতেই মন বসতে চাইছে না।

কিছুতেই যখন সনাতনকে নিবৃত্ত করতে পারলেন না, জুন হ'য়ে সুলতান তখন রনাতনকে কারাগারে পরের করলেন।

মদনমোহন শ্রীসনাতন গোগ্ধামী ২৩

এদিকে কূপ সনাতনকে চিঠি লিখে জানালেন, আমি আর ভাই বল্পভি মহাপ্রভুর চরণ বন্দনা করতে বৃন্দাবনে চলেছি। তুমি যেমন ক'রে পারো চলে এসো 'তুমি যৈছে তৈছে ছুটি আইস তাহা হৈতে'। মুদির কাছে দশ হাজার টাকা রেখে এসেছি প্রয়োজন হ'লে তা-ই উৎকোচ দিয়ে কারাগার থেকে পালিয়ে এসো।

সনাতন কাবাবক্ষীকে সাত হাজার টাকা উৎকোচ দিয়ে পালিয়ে গেলেন। রাতারাতি গঙ্গ। পার হ'য়ে ছদ্মবেশে নির্জন পথে চললেন। চললেন দীনহীন কাঙালের মতো হাটতে হাটতেই এলেন কাশী। কাশীতে এসে শুনলেন, মহাপ্রভু এখানেই আছেন আছেন চন্দ্রশেখর আচার্ষের গৃহে

মহাপ্রভু টের পেলেন, সনাতন এসেছেন। লোক পাঠালেন তাকে আনতে

সনাতন এলেন। এসেই

ছুই গোছা তৃণ কবে, এক গোছা দস্তে ধাবে, পড়িল গৌরাঙ্গ-বাডা পায়।

মহাপ্রভু সনাতনকে আলিঙ্গন করলেন

সনাতন কেঁদে উঠলেন

আমাকে তুমি স্পর্শ কোরো না। আমি পতিত। আমি অধম। আমি তোমার স্পর্শেরও অযোগ্য

কী যে বলো, সনাতন! নিজে পবিত্র হবার লোভেই তে! তোমায় স্পর্শ করেছি! ভক্তি বলে তুমি যে সারা বিশ্ব পবিত্র করতে পারো। প্রভু কহে- তোমা স্পশি পবিত্র হৈতে। ভক্তি বলে পার তুমি ব্রহ্মাণ্ড শোধিতে সনাতন নীরবে কাদতেই লাগলেন মহাপ্রভু হেসে বললেন, কৃষ্ণ তোমায় এতদিনে উদ্ধার করলেন, সনাতন।

২৪ শান্ত ভারত

সনাতন বললেন, প্রত, আমি কৃষ্ণ জানিনে। জানি শুধু তোমাকেই। আমি জানি, তুমিই আমাকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছো কাশীতে কয়েকদিন থেকে মহাপ্রভু সনাতনকে ভক্তিতত্, কৃত, সাধনভক্তির কথা, এইসব শোনালেন প্রেমের লক্ষণ, ভক্তের লক্ষণ, সবও ব্যাখ্যা করলেন। বৈষ্ণব সাধ্য সাধনতত্বও বোঝালেন। তারপর সনাতনের মাথায় হাত রাখলেন তোমাকে যা শেখালাম, তোমাতে তা ক্ষুরিত হোক। তবে মহাপ্রভু তার শিরে ধরে করে। বর দিমু এই সব স্ফুরুক তোমারে এইভাবে সনাতনে শক্তি স্চার করলেন মহাপ্রভু সনাতনকে নিজ প্রবতিত বৈষ্ণবীয় সাধনায় অস্ুপ্রাণিত করলেন। সনাতনকে মহাপ্রভু নির্দেশ দিলেন-__ তুমিও করিহ ভক্তিরসের প্রচার মথুরায় লুপ্ত তীর্ঘের করিহ উদ্ধার বৃন্দাবনে কৃষ্ণসেব। বৈষণব-আচার ভক্তি স্মৃতিশান্ত্র করি করহ প্রচার মহাপ্রভু আরও বললেন, সনাতন, এর পর থেকে আমার কাস্থা কড়ঙ্গধারী কাঙাল বৈষ্ণবের! দলে দলে বৃন্দাবনে গিয়ে আশ্রয় নেবে তুমি তাদের সবার উপর দৃষ্টি রেখো তাদের রক্ষণাবেক্ষণ কোরো। কাথা করঙ্গিয়া মোর কাঙ্গাল ভক্তগণ। বন্দাবনে আসিবে তার করিহ পালন

মহাপ্রতৃ-প্রদত্ত গুরুভার শিরোধার্ধ কারে সনাতন এলেন বৃদ্বাবনে। আশ্রয় নিলেন যমুন। পুলিনের আদিত্যটিলায়।

চারিদিকে ঘন সবুজ গাছপালা এখানে ওখানে অরণ্য। অনুরে যমুনা একেবারে নির্জন এই অঞ্চল।

মদনমোহন প্রীননাতন গোস্বামী ২৫

সনাতন স্থির করলেন, এ-ই ভালো এই-ই সাধন-ভজনের উপযুক্ত স্থান। এখানেই থাকবো দারুণ কৃচ্ছুসাধনের মধ্য দিয়ে তার দিন চলে। ' প্রতিদিন এক এক বৃক্ষতলে বাস। প্রতিদিন পরিক্রমা নাহিক আলস বৃক্ষতলে বসি সদা গ্রস্থামুশীলন। অলক্ষ্যে করেন পরিক্রমা বৃন্দাবন সনাতন সাধন-ভজন করেন। মাঝে মাঝে পায়ে হেঁটে ঝুলি কাধে মথুরায় গিয়ে সামান্য কিছু ভিক্ষা ক'রে নিয়ে আসেন। এই সময়ে মহাপ্রভুর নির্দেশ মতো! লুপ্ততীর্থ উদ্ধারেও তিনি ব্রতী হন। এই ভাবে কেটে গেল প্রায় এক বৎসর

সনাতনের মন চঞ্চল হ'য়ে উঠলো! নীলাচলে গিয়ে মহাপ্রভুকে দর্শন করবার জন্যে একদিন বেরিয়ে পড়লেন ঝুলি কাধে নিয়ে

নীলাচলে থাকলেন কয়েক মাস। এখানেও মহাপ্রভুর শ্রীমুখ হ'তে ভক্তি সাধনার বু নির্দেশ, বু উপদেশ তিনি লাভ করলেন।

আবার ফিরে এলেন সনাতন বৃন্দাবনে আবার সেই আদিত্য টিলায়। শুরু হোলে। ভজন কীর্তন

বন্দাবনের আশেপাশে লোকজন ছিল ন। বললেই হয়। তাই পূর্বের মতো ভিক্ষা সংগ্রহ করতে মাঝে মাঝে সনাতন মধুরায় যেতেন

সেদিনও সনাতন মাধুকরী করতে গিয়েছেন মথুরায়। উপস্থিত হয়েছেন দামোদর চৌবে নামে এক ক্রাক্ষণের গৃহে

দিটাহানিরারিরিিনিজানানি হিনরা তত শ্রীমদনগোপাল বিগ্রহ

নিমেষে সনাতনের মনোহরণ করলেন মদনগোপাল।

ত্গ শাখখঙত ভারত

কী মনোমোহন রূপ ! কী নয়নাভিরাম বঙ্কিম ঠাম |

সনাতন স্থির দাঁড়িয়ে রইলেন পাসরে না। চোখের পলক পড়ে না। একৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন চোখ দিয়ে বিন্দু বিন্দু জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো ধীরে ধীরে প্রেমাবেশে সনাতন বিহ্বল হ'য়ে পড়লেন। লুটিয়ে পড়লেন ভূমিতে

সনাতনের প্রবল বাসনা জাগলো, আহা, যদি পেতাম এই ঠাকুরকে, সেবা করতাম ! সেবা ক'রে ধন্য হতাম!

অতি কষ্টে আত্মসংবরণ করলেন সনাতন

সনাতন দীন কাঙাল এক বৈষ্ণব। কান্থা কড়ঙ্গধারী। শ্রীবিগ্রহের সেবা করবার সামর্থ তার নেই, তিনি জানেন তবুও আতি জাগে যদি পেতাম! আহা!

পরক্ষণেই চিন্তা হয়, চৌবে-পরিবার বিগ্রহ ছাড়বেন-ই বা কেন?

মাধুকরী শেষে সনাতন বৃন্দাবনে ফিরে আসবেন বারবার: তাকাতে লাগলেন বিগ্রহের দিকে বিগ্রহ তার মন সম্পূর্ণ কেড়ে নিয়েছেন।

সার পথ বিগ্রহ-রূপ মনের চোখ দিয়ে দেখতে দেখতে সনাতন ফিরে এলেন আদিত্যটিলায়।

ধ্যানে বসবলেন। একী বিপদ! যখনই চোখ বুজে বসেন ভজন আসনে তখনই মদনগোপাল তার চোখের সামনে এসে দাড়ান, হরণ করেন মনঃগ্রাণ।

শাস্তি নেই। স্বস্তি নেই।

আহা! যদ্দি মদনগোপালকে পেতাম! এখানে এনে তার সেবা পৃজা করতাম!

দিনের সর্বক্ষণই মদনগোপাল থাকেন চোখের সামনে রাতেও তাই। ঘুম নেই। সারারাত দেখেন মদনগোপালকে

মদনমোহন ভ্রীসনাতন গোস্বামী ২৭

এভাবে দেখে কি সাধ মেটে ? দেখতে হবে ছুই চোখ দিয়ে প্রাণ ভরে। তাকে ছু'তে হবে, ধরতে হবে। তার সেবা করতে হবে।

যাই। দেখে আসি। ছুটে এলেন মথুরায় চৌবে-ভবনে

প্রায়-ই এমন হয়। যাতায়াত ঘন ঘন হ'তে লাগলো!

ধীরে ধীরে চৌবে-পরিবারের সঙ্গে সনাতনের জন্মালো৷ ঘনিষ্ঠতা

চৌবে-গৃহিণী শ্রীমতী বল্পভা দেবী মদনগোপালের সেব। করেন সনাতন মুগ্চচোখে দাড়িয়ে দেখেন

চৌবে-গৃহিণীর সেবার ভান কী সহজ আর সুন্দর !

তার কাছে মদনগোপাল যেন বাল-গোপ।ল। যেন নিজেরই এক ছেলে

চৌবে-গৃহিণীর পুত্রটির নাম সদন |

সদনের মতোই মদনকে সেবা পরিচর্যা করেন চৌবেশগৃহিণী |

সদন চৌবে গৃহিণীর একমাত্র পুত্র

কেউ জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেন, ছেলে আমার ছুটি

কৈ, আমরা তো৷ জানি, ছেলে তোমার একটি--সদন ।--হয়ত কেউ বললো বিন্ময়ে

কেন, আমার মদনকে দেখনি? মদন ?-নানা। আমার ছুই ছেলে-সদন আর মদন

ন্নেহে অভিষিক্ত করেন ছুই পুত্রকেই। নীরবে চোখ যায় বুজে হাত দুধানি অলক্ষিতে প্রসারিত হয়।

ছুই ছেলেকেই বুকে জড়িয়ে ধরলেন বুঝি !

সনাতন নৈষিক ভক্ত। তার কেমন যেন মনে হয়। একটু

চিন্তিতও হ'য়ে পড়েন। নিজের ইষ্টদেৰ এই মদনগোপাল তীর সেবা পরিচর্যা করছেন

শাখত ভারত

নিজের ছেলের মতোই মাতৃভাবে। কিন্তু তাই ব'লে প্রকৃত সেবাভাব থাকবে না? থাকবে না দেবতার মত ক'রে সেবাভাব, পুজা-অর্চনা ? কেমনতরো ?

একদিন চৌবে-গৃহিণীকে সনাতন সব কথা খুলেই বললেন